Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বায়োডাইভার্সিটি হেরিটেজ সাইট নয়াচর মাটি মাফিয়াদের দখলে

বায়োডাইভার্সিটি হেরিটেজ সাইট নয়াচর মাটি মাফিয়াদের দখলে
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ: কালীগঞ্জ ব্লকের ভাগীরথীর পাড়ে প্রত্যন্ত নয়াচর এলাকা। বছরখানেক আগে সেই এলাকাকেই বায়োডাইভার্সিটি হেরিটেজ সাইটের তকমা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বর্তমানে সেই হেরিটেজ সাইটই চলে গিয়েছে মাটি মাফিয়াদের দখলে। ‌রাত হলেই সেখানে শুরু হয়ে যায় মাটি কাটার কাজ। এই অবৈধ মাটির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের একটি চক্র। তাদের দৌরাত্ম্যেই নয়াচরের জীববৈচিত্র্য এখন সঙ্কটের মুখে। উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসন মহলে। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেশ কয়েকবার সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে নয়াচরে। তাতেও বাগে আনা যায়নি মাটি মাফিয়াদের কার্যকলাপকে। দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে বারবার সেখানকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে সক্রিয় মাফিয়ারা। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এই নয়াচারে বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের সদস্যরা ভিজিটে আসবেন। গোটা এলাকা পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করা ও সাইটের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। 
Advertisement
কালীগঞ্জের বিডিও অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘নয়াচরে মাটি কাটার খবর এলেই ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে বিএলএলআরও এবং পুলিসকে জানানো হয়। এই নিয়ে ওই এলাকায় একাধিকবার অভিযানও চালানো হয়েছে। বিষয়টা আমরা কড়া নজরে রেখেছি।’
নয়াচরএলাকা নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ ব্লক এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার সীমানায় অবস্থিত। কিন্তু ভাগীরথীর জন্য সেই এলাকা কালীগঞ্জের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হয়ে সিংহভাগটাই পূর্ব বর্ধমানের দিকে চলে গিয়েছে। ফলে, দুর্গম এলাকা নয়াচর যেতে গেলে নৌকা করে গঙ্গা পেরোতে হয় প্রশাসনকে। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারিও সেরকম থাকে না। তার উপর খোলা জায়গা। তাই বাইরের মানুষের অবাধ বিচরণ থাকে। এই সুযোগ নেয় মাটি মাফিয়ারা।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ‘কালীগঞ্জের ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে ওই নয়াচর এলাকায় বহু সিড বল ফেলা হয়েছিল। যাতে সেখানে গাছের সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে সেই সিড বল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
জীব বৈচিত্র্যের নিরিখে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের কোম্পানি বাগান এবং কালীগঞ্জ ব্লকের নয়াচরকে বায়োডাইভার্সিটি হেরিটেজ সাইট হিসেবে চিহ্নিত করেছিল রাজ্য সরকার। কারণ এই দুই এলাকায় বহু লুপ্তপ্রায় প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব রয়েছে। বিশেষ করে জেলার সীমান্তের ব্লক কালীগঞ্জের প্রত্যন্ত নয়াচর এলাকা ভৌগলিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই এলাকায় নদীতে বহু ডলফিন রয়েছে। এমনকী ঘড়িয়াল, কুমিরের মতো জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব মিলেছে। আবার স্থলভাগে ভোঁদর, ভাম বেড়াল, গোল্ডেন মনিটর লিজার্ডের মতো প্রাণীও রয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই জীব-বৈচিত্রের নিরিখে সেখানকার বাস্তুতন্ত্র খুবই স্পর্শকাতর বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা। নদী বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকার বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে গঙ্গাতে শুশুকরা বসবাস করে। মাটি কেটে নদীর বাস্তুতন্ত্রকে নষ্ট করলে তার প্রভাব পড়বে এই শুশুকের উপর। কাজেই গঙ্গার বুক থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করা এখনই দরকার।’
সম্পর্কিত সংবাদ