Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্যবসা বাড়াতে দুই বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার চেয়ে প্রতারণার শিকার এগরার যুবক

ব্যবসা বাড়াতে দুই বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার চেয়ে প্রতারণার শিকার এগরার যুবক
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নিজের ব্যবসা বড় করার জন্য দুই বন্ধুর কাছ থেকে ৫০হাজার টাকা ধার চেয়ে অভিনব প্রতারণার শিকার হলেন এগরার যুবক। প্রতারিত শিবম সুন্দরম সাউয়ের বাড়ি এগরা থানার সাহড়দা গ্রামে। ব্যাঙ্কলোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিবমকে তিনটি অ্যাকাউন্ট খুলতে বলেছিল তাঁরই পরিচিত দুই বন্ধু। তাদের পরামর্শমতো ব্যাঙ্কের পাসবই, এটিএম এবং অ্যাকাউন্টে যোগ থাকা সিমকার্ড তুলে দিয়েছিলেন। সেইসব অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। ঝাড়খণ্ডের পালামৌ সাইবার ক্রাইম থানায় এনিয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে পুলিস এগরার শিবমের বাড়িতে হাজির হয়। পুলিসের হাত থেকে বাঁচতে গাঢাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে। দুই বন্ধু এভাবে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে ফেলবে ভাবতেও পারেননি সাহড়দা গ্রামের ওই যুবক। দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কাঁথি এসিজেএম কোর্টের দ্বারস্থ হন শিবম। আদালতের নির্দেশে এগরার রুঙ্কিনীপুর গ্রামের তাঁর দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
Advertisement
উচ্চশিক্ষার পরও চাকরি না পেয়ে শিবম একটি লটারির টিকিট বিক্রির দোকান চালিয়ে রোজগারের পথ বেছে নেন। ওই দোকান বড় করার জন্য তাঁরই স্কুল জীবনের দুই বন্ধুর থেকে ৫০হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। ওই দুই বন্ধু ব্যাঙ্ক লোনের মাধ্যমে টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে শিবম জানান। এজন্য তাঁকে তিনটি অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই তিনটি অ্যাকাউন্টের যাবতীয় নথিপত্রও নিজেদের জিম্মায় রেখেছিল অভিযুক্ত দুই যুবক। অ্যাকাউন্ট খোলার কয়েক মাস পর সেগুলি ফ্রিজ হয়ে যায়। তারপরই ঝাড়খণ্ড পুলিসের টিম শিবমের বাড়িতে হাজির হয়। জানা যায়, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার টাকা ট্রান্সফার করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনায় হতবাক ওই যুবক।সহজে লোন পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে অনেকেই এভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে সাইবার প্রতারকদের হাতে তুলে দিচ্ছে। কয়েকদিন আগে নন্দীগ্রাম-২ব্লকের রেয়াপাড়ার এক যুবক এভাবেই দু’টি অ্যাকাউন্ট খুলে পাসবই, এটিএম এবং সিমকার্ড অন্যের হাতে তুলে প্রতারিত হয়েছেন। দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। অথচ, ওই যুবক এবিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে। অ্যাকাউন্ট খোলার পর পাসবই, এটিএম এবং অ্যাকাউন্টে যোগ থাকা সিমকার্ড কোনও অবস্থায় অন্যের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিস।
শিবমের বাবা কালীপদ সাউ বলেন, ছেলে চাকরির আশায় অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেছিল। কিন্তু, চাকরি হয়নি। রোজগারের জন্য একটি দোকান খুলেছে। সেই দোকান কিছুটা বড় করার জন্য নিজের দুই বন্ধুর কাছে টাকা ধার চেয়েছিল। লোনের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার নাম ধরেই ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে তিনটি অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্য করায়। তারপর সেইসব অ্যাকাউন্ট সাইবার অপরাধীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জেলার পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া মারাত্মক ভুল। যে কোনও মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কা থাকে।
সম্পর্কিত সংবাদ