নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুধু জীবনদায়ী নয়, সমস্ত ওষুধ থেকেই জিএসটি তুলে নেওয়া হোক। এমনটাই চাইছেন ‘দক্ষিণবঙ্গের ওষুধ বাজার’ বর্ধমানের কল্যাণী মার্কেট এবং খোসবাগানের ক্রেতারা। তাঁদের দাবি, হাতেগোনা কয়েকটি ওষুধ থেকে জিএসটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু বহু পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে প্রতিদিনই কোনও না কোনও ওষুধ খেতে হয়। তা কিনতে তাঁদের নাভিশ্বাস উঠছে। সেসব ওষুধ থেকেও জিএসটি তুলে নেওয়া হলে তাঁদের স্বস্তি মিলবে। মূল্যবৃদ্ধির জেরে সংসার চালাতে সকলকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপর ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে।
বীরভূমের সাঁইথিয়া থেকে খোসবাগানে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন সুজন দে। তিনি বলেন, এখন সব চিকিৎসকই অ্যান্টিবায়োটিক লেখেন। জ্বর হোক বা অন্য কোনও অসুখ, সব রোগেই ওই ওষুধ খেতে হয়। অ্যান্টিবায়োটিক থেকে জিএসটি প্রত্যাহার করা হয়নি। এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সুগার, প্রেসার বা গ্যাসের রোগী রয়েছেন। তাঁদের প্রতিদিনই ওষুধ দরকার হয়। দাম কমলে সবাই স্বস্তি পেতেন। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন সুমন্ত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে ১৭ হাজার টাকা বেতন পাই। স্ত্রী এবং আমার ওষুধ বাবদ প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। তারপর আবার চিকিৎসকের ফিজ রয়েছে। ওষুধ না খেলে সব রোগীই মারা যেতে পারেন। তাই সব ওষুধকেই জীবনদায়ী ঘোষণা করে জিএসটি প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত ছিল। সেটা হলে ভালো হতো।
বর্ধমানের কল্যাণী মার্কেট থেকে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ জেলার বিক্রেতারা ওষুধ কিনে নিয়ে যান। তাঁরা নিজেদের দোকানে সেই ওষুধ বিক্রি করেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, ওষুধের দাম আগেই কমা উচিত ছিল। দাম বাড়ার কারণে অনেককে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিতে দেখেছি। পরে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ওষুধে জিএসটি থাকা উচিত নয়। ক্রেতারা বাজারে এসে কম দামের ওষুধ কেনেন। নকল ওষুধ বিক্রেতারা এই সুযোগের ফায়দা তুলছে। তারা কম দামে বিভিন্ন বাজারে ওষুধ সরবরাহ করছে। সরকার ওষুধের দাম কমিয়ে দিলে নকল কারবারিদের এত বাড়বাড়ন্ত হতো না। অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে কয়েক হাজার ওষুধ রয়েছে। তারমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ৩৩টি ওষুধকে জীবনদায়ী ঘোষণা করে জিএসটি প্রত্যাহার করেছে। বাকি কিছু ওষুধে জিএসটি কিছুটা কমছে। ওষুধ জিএসটি-শূন্য করলে তবেই মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তরা স্বস্তি পেত। জীবনদায়ী ওষুধ কিনতে গিয়ে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। এতদিন পর কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি বুঝেছে। এটা বড় বিষয়। তবে আরও আগে সরকারের বোধোদয় হওয়া উচিত ছিল।