Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আমতার জয়পুরে বিড়ি কেনা নিয়ে বচসা, দোকানির মারে মৃত্যু ক্রেতার

বিড়ি কেনা নিয়ে বচসা। তার জেরেই ক্রেতাকে মারধর করে দোকানি। অভিযোগ, মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বছর বাহান্নর শ্রীমন্ত দলুইয়ের।

আমতার জয়পুরে বিড়ি কেনা নিয়ে বচসা, দোকানির মারে মৃত্যু ক্রেতার
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বিড়ি কেনা নিয়ে বচসা। তার জেরেই ক্রেতাকে মারধর করে দোকানি। অভিযোগ, মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বছর বাহান্নর শ্রীমন্ত দলুইয়ের। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার আমতায় জয়পুর থানা এলাকার তেলিরবেড়িয়া গ্রামে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত দোকানি সাগর দলুইকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ, বুধবার ধৃতকে উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হবে। জয়পুর থানার পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

তেলিরবেড়িয়া গ্রামে মুদি দোকান রয়েছে সাগরের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাতে সাগর দোকান বন্ধ করে মালপত্র গোছানোর সময় শ্রীমন্ত তার কাছে বিড়ি চান। কিন্তু সাগর জানায়, দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এখন আর বিড়ি বিক্রি করা সম্ভব নয়। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা বাঁধে। অভিযোগ, ঝামেলা চলাকালীন সাগর শ্রীমন্তকে ব্যাপক মারধর করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাঁকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরের দিন, সোমবার রাতে তিনি ফের গুরুতর অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকালে শ্রীমন্ত দলুইয়ের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিবেশীরা। তাঁর পরিজন ও গ্রামবাসীরা সাগরের দোকানের সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খবর পেয়ে জয়পুর থানার পুলিশ এলে বিক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়ে। অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা। পুলিশ সাগরকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে তাকে। 
এদিন সকালে গিয়ে দেখা গেল, গোটা এলাকা থমথমে। সাগরের মুদি দোকানে তালা ঝুলছে। শ্রীমন্তর বাবার চায়ের দোকানের সামনে আত্মীয়, গ্রামবাসীদের জটলা। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, রবিবার রাতে বিড়ি কেনা নিয়ে দু’জনের মধ্যে সামান্য বচসা হয়। সেই সময় শ্রীমন্তর বুকে, পিঠে এলোপাতারি ঘুসি, লাথি মারে সাগর। এমনকি, নিজের ভারী বাইকটি শ্রীমন্তর গায়ের উপর ফেলে দেয় বলেও অভিযোগ। তাঁরা অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি জানান। 
অন্যদিকে, সাগরের দাদা বিজয় দলুই বলেন, শ্রীমন্ত ভাইকে গালিগালাজ করায় ও মাথা ঠিক রাখতে পারেনি। তবে মারধরের ফলে যে শ্রীমন্তর মৃত্যু হতে পারে, তা সাগর বুঝতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের সুপার সুবিমল পাল বলেন, অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ