নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাংলা নববর্ষে নদীয়া জেলার বিভিন্ন মন্দিরে হালখাতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভিড় উপচে পড়ল। যাঁরা নববর্ষে দোকানে পুজো করেন না, তাঁরাই মন্দিরে এসে পুজো দেন। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে মন্দিরে হালখাতা পুজোর প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে। অনেকক্ষেত্রেই খরচ বাঁচাতে দোকানে পুজোর আয়োজন করছেন না তাঁরা। তাই নববর্ষের একসপ্তাহ আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন মন্দিরে প্রস্তুতি শুরু যায়।
তবে সময়ের সঙ্গে হালখাতার দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যে হালখাতা ৪০-৬০টাকায় বিক্রি হতো, তার দাম এখন বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০টাকা। নববর্ষ থেকে বেচাকেনার নতুন হিসেবনিকেশ শুরু হয়। আর সেই কাজের জন্য প্রতিবছর ব্যবসায়ীরা নতুন হালখাতা কেনেন। লাল রঙের এই খাতা পুজো করে নতুন বছরের হিসেব রাখা শুরু করেন দোকানিরা। খাতার প্রথম পাতায় সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা হয়। এখন বেশিরভাগ জায়গায় হিসেবনিকেশের কাজ ডিজিটাল হয়ে গেলেও রীতি মেনে হালখাতা কেনেন অনেক ব্যবসায়ী। নদীয়া জেলার বহু মন্দিরে নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ভিড় দেখা গিয়েছে। কৃষ্ণনগরের সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, কালীগঞ্জের জুড়ানপুর কালীবাড়ির পাশাপাশি নবদ্বীপ, নাকাশিপাড়া, শান্তিপুর নানা মন্দিরে পুজো দিতে ব্যবসায়ীরা গিয়েছেন। তাই বাংলা নববর্ষের একসপ্তাহ আগে থেকেই এসমস্ত মন্দিরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা ছিল। মন্দির চত্বর নানাভাবে সাজিয়ে তোলা হয়। নাকাশিপাড়ার এক মন্দির কমিটির সদস্য বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে পুজো দিতে পারেন, সেজন্য আমরা সমস্তরকম ব্যবস্থা করেছি। নববর্ষের দিন পুজো দিতে আসা সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানালেন, খরচের বোঝা এড়াতে দোকানে পুজোর আয়োজন করছেন না। মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়েছেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে সারাবছর বিক্রিবাটা করে যা লাভ হতো, তা দিয়ে নববর্ষে বড় করে অনুষ্ঠান করা যেত। কিন্তু সেসব এখন অতীত। তাই মন্দিরে পুজো দিয়েই কোনওরকমে নতুন হালখাতা শুরু করেছি। কৃষ্ণনগরের প্রবীণ ব্যবসায়ী শুভদীপ মজুমদার বলেন, এখন তো সবই ডিজিটাল হয়ে গিয়েছে। সমস্ত হিসেবনিকেশ কম্পিউটারে রাখা হয়। তবে ঐতিহ্য মেনে আমরা হালখাতা পুজো করি। তবে এখন খরচ যা বেড়েছে, তাতে দোকানে বড় করে পুজো, লোক খাওয়ানো-এসব সম্ভব হয় না। তাই এই দিনে মন্দিরে পুজো দিয়ে নতুন বছরের ব্যবসার সূচনা করি।



