Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরবাসীকে রাজনীতিতে নামার আহ্বান জানিয়ে কিস্তিমাত করতে চাইছেন ব্যবসায়ী তৃণমূল প্রার্থী

নায়ক সিনেমায় মুখ্যমন্ত্রীর সচিব বনশাল তথা অভিনেতা পরেশ রাওয়াল শিবাজি রাওয়ের ভূমিকায় অভিনয় করা অনিল কাপুরকে রাজনীতির নামার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

দুর্গাপুরবাসীকে রাজনীতিতে নামার আহ্বান জানিয়ে কিস্তিমাত করতে চাইছেন ব্যবসায়ী তৃণমূল প্রার্থী
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নায়ক সিনেমায় মুখ্যমন্ত্রীর সচিব বনশাল তথা অভিনেতা পরেশ রাওয়াল শিবাজি রাওয়ের ভূমিকায় অভিনয় করা অনিল কাপুরকে রাজনীতির নামার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সেখানে তাঁর ডায়ালগ ছিল, রাজনীতিকে সবাই গালি দেয়। কিন্তু, রাজনীতি করতে নেমে রাজনীতির নোংরা তোলার কাজ কেউ করতে চান না। তাঁদের রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা করার কোনো অধিকার নেই। সেই শব্দগুলিরই প্রতিধ্বনী শোনা গেল দুর্গাপুরে। এখানে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর সচিব নন, একজন তৃণমূল প্রার্থী ভোট চাওয়ার বদলে এলাকায় গিয়ে মানুষকে রাজনীতিতে নামার আহ্বান জানাচ্ছেন। নেতাদের ভাষা ছেড়ে সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলছেন। ব্যতিক্রমী প্রচার করেই দুর্গাপুরবাসীর নজর কেড়েছেন দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কবি দত্ত। 

Advertisement

কবিবাবু দুর্গাপুরের একজন সফল ব্য‌বসায়ীও। দীর্ঘদিন দুর্গাপুর চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি এডিডিএ-র চেয়ারম্যান। বড় ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাদে দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন মহল্লায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁকেই এবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করায় প্রথম দিকে নিজেরে একজন উদ্যোগপতি হিসাবেই পরিচয় দিচ্ছিলেন। এখন তৃণমূল কংগ্রেসের জার্সি গায়ে পরে তিনি বিভিন্ন পেশায় যুক্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে রাজনীতিতে নামার আহ্বান জানাচ্ছেন। 
শুক্রবার দুর্গাপুরের চতুরঙ্গ এলাকায় ঘরোয়া আড্ডায় নির্বাচনি প্রচার সারছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। পাশেই বসেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। কবিবাবু বলেন, ১২তম খেলোয়াড় হয়েও রাজনীতির ময়দানে খেলার জার্সি পরেছি। আমরা বাইরে থেকে রাজনীতির সমালোচনা করি। কিন্তু, রাজনীতিতে নেমে তাকে শুদ্ধ করার কথা তো কেউ ভাবি না। আমরা কেউ রাস্তা দখল করে দোকান বসালে বলি নেতারা টাকা খেয়ে দোকান বসিয়ে দিয়েছে। আবার আমরা রাস্তা দখলমুক্ত করতে গেলে বলা হবে, ওরা করে খাচ্ছিল। এই দ্বিচারিতা কেন। আপনারা যাঁরা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তাঁরা কেন রাজনীতিতে নামছেন না। আপনারাই ঠিক করুন কাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ হবেন। যাঁরা হিংসা করে, অস্ত্র নিয়ে রাজনীতি করে তাদের দ্বারা। আপনারা রাজনীতিতে নেমে দুর্গাপুরের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলবেন। 
এরপরই তৃণমূল ব্লক সভাপতির উদাহরণ টেনে বলেন, উনি ‌ইসিএলের বড় আধিকারিক ছিলেন। ওনার মেয়ে, জামাই ডাক্তার। উনি রাজনীতিতে নাই নামতে পারতেন। কিন্তু, উনি রাজনীতিতে নেমেছেন। আমি রয়েছি। আপনারাও আসুন। 
পাশাপাশি দুর্গাপুর নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, সিটিসেন্টারের সোয়ারেজ সিস্টেম নিয়ে কেউ ভাবেনি। আমরা ভাবছি। আপনাদের আশীর্বাদ থাকলে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচে সোয়ারেজ সিস্টেম হবে। দুর্গাপুরে আন্তঃ রাজ্য বাস টার্মিনাস হবে। দুর্গাপুর সংস্কৃতির শহর। এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়। তিনি বিরোধীদের মতো আক্রমণের পথে না হেঁটে দুর্গাপুরের উন্নয়নের কথা বলে সাধারণ মানুষকে রাজনীতির ময়দানে যুক্ত করে কিস্তিমাত করতে চাইছেন।অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হেঁটেছেন চিরাচরিত প্রচার কৌশলেই। একের পর এক র‌্যালি করছেন। তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করছেন বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনি নাটক করছেন। চাকরি চুরি, মেয়েদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে উনি কেন আওয়াজ তোলেননি।  তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কবি দত্তের প্রচার।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ