Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোলাঘাটে ব্যবসায়ীর চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে ৫ লক্ষ টাকা ছিনতাই

শনিবার সকালে কোলাঘাটে হাইরোডের ধারে চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে নন্দকুমারের ব্যবসায়ীর পাঁচ লক্ষ টাকা ছিনতাই করল দুষ্কৃতীরা। ওই ব্যবসায়ীর নাম নিবারণ পাল। তাঁর বাড়ি নন্দকুমার থানার কুমোরআড়া গ্রামে।

কোলাঘাটে ব্যবসায়ীর চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে ৫ লক্ষ টাকা ছিনতাই
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শনিবার সকালে কোলাঘাটে হাইরোডের ধারে চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে নন্দকুমারের ব্যবসায়ীর পাঁচ লক্ষ টাকা ছিনতাই করল দুষ্কৃতীরা। ওই ব্যবসায়ীর নাম নিবারণ পাল। তাঁর বাড়ি নন্দকুমার থানার কুমোরআড়া গ্রামে। তিনি আদা, রসুন ও পেঁয়াজের ব্যবসায়ী। এদিন সকালে ওইসব জিনিস কিনতে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে খড়্গপুরের বাজারে যাচ্ছিলেন। মেচেদা পেরিয়ে কোলাঘাটে গাড়ি পৌঁছনোর পর রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে নিবারণবাবু ও চালক বিজয় সাউ প্রস্রাব করছিলেন। সেই সময় একটি স্কুটিতে তিনজন আচমকা হাজির হয়। স্কুটি থেকে দু’জন নেমে তাঁদের চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ব্যবসায়ী ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করলেও নিমেষে তারা উধাও হয়ে যায়। সকাল সওয়া ৮টা নাগাদ ওই ঘটনার পর নিবারণবাবু কোলাঘাট থানায় গিয়ে এফআইআর করেন। পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। যদিও পুলিস দুষ্কৃতীদের নাগাল পায়নি। 

Advertisement

কোলাঘাট ছিনতাইবাজদের কার্যত স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। গত ১৫দিনে পর পর চারটি ছিনতাই ও কেপমারির ঘটনায় এখানকার আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে। জমি কেনা, হোটেলে ডেকরেশনের বরাত দেওয়ার নামে লোকজনকে কোলাঘাটে ডেকে তাঁদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ঘটনায় দুষ্কৃতীরা ধরা পড়ছে না। যে কারণে চুরি, ছিনতাই ও ঩কেপমারির মতো ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে জাতীয় সড়ককে ব্যবহার করছে দুষ্কৃতীরা। অপারেশনের পর নিমেষে উধাও হয়ে যাচ্ছে। 
গত ১ আগস্ট কোলাঘাট নতুনবাজারে দুষ্কৃতীরা কেপমারি করে আশুরালি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মী দিবাকর ভট্টাচার্যের ২৭ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। তার আগে গত ২৯ জুলাই পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার দেবীপুরের ইনটেরিয়র ডেকোরেশন ব্যবসায়ী কৃশানু সামন্ত কোলাঘাটে ছিনতাইবাজদের খপ্পরে পড়েন। দীঘা ও তাজপুরের হোটেলে অন্দরসজ্জার কাজের বরাত দেওয়ার জন্য অগ্রিম পেমেন্ট করার টোপ দিয়ে কোলাঘাটে ডেকে হাইওয়েতে জোর করে প্রাইভেট গাড়িতে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিস অবশ্য দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ৩০জুলাই কোলাঘাট থানার বাড়বড়িশা গ্রামে দীঘার বাসিন্দা শঙ্কর প্রামাণিক সর্বস্ব খুইয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। তিনি দীঘায় নিজের জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই জমি কেনার টোপ দিয়ে কোলাঘাটে ডেকে তাঁর সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হয়। নন্দকুমারের আদা, রসুন ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নিবারণবাবু বলেন, শনিবার সকালে খড়্গপুরে পাইকারি কেনাকাটার জন্য একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে যাচ্ছিলাম। কোলাঘাটে ব্রিজ পেরনোর পরই রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে প্রস্রাব করার সময় আচমকা তিনজন আসে। একজন আমার চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। তখন কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমার সঙ্গে ছিলেন বিজয় সাউ। আরক দুষ্কৃতী তাঁর চোখে মুখে লঙ্কার গুঁড়ো ঘসে দেয়। তারপর মুহূর্তের মধ্যে আমার পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। কোলাঘাট থানার ওসি রাজু কুণ্ডু বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ