তিরুবন্তপুরম, ২৬ জুন: রেস্তরাঁ ব্যবসার জন্য সস্তায় জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে চরম প্রতারণার শিকার হলেন এক ব্যবসায়ী। ভারতীয় টাকাকে ইউএসডিটি নামক ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে দেওয়ার টোপ দিয়ে ১৭.৬৪ লক্ষ টাকা ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর সঞ্জয়নগর থানা এলাকার কল্পনা চাওলা রোডে।
এই খবর পুলিশের কাছে যেতেই তদন্ত করে মোট ১২ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে ১৩.৯০ লক্ষ টাকা নগদ, ছয়টি মোটরসাইকেল, একটি গাড়ি এবং অপরাধে ব্যবহৃত ১৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১০ জুন সঞ্জয়নগর থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কোডিগেহাল্লির বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারী ব্যক্তি একটি ক্যাফে খোলার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই কারণে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে রান্নাঘরের আধুনিক টাইলস, রান্নার সরঞ্জাম ইত্যাদি খুঁজছিলেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, জাপান বা চিন থেকে এই ধরনের সামগ্রী অনেক কম দামে আমদানি করা সম্ভব। তবে এর জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট করতে হবে। বন্ধুর পরামর্শ মেনে ওই ব্যবসায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং সংক্রান্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হন। সেখানেই গ্রুপের এক সদস্যের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। গত ৮ জুন মধ্যরাতে ওই ব্যক্তি ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে ২.৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইউএসডিটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রান্সফার করে দেন। প্রথমবার সফল লেনদেনের পর ওই ব্যবসায়ীর বিশ্বাস জন্মায়। রেস্তরাঁর বাকি সরঞ্জাম কেনার জন্য তাঁর আরও বড় অঙ্কের ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রয়োজন ছিল। সেই অনুযায়ী, গত ৯ জুন তিনি পুনরায় ওই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং ১৭.৬৪ লক্ষ টাকা মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ করার অনুরোধ জানান। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে নগদ টাকা নিয়ে সেই রাতেই সঞ্জয়নগরের কল্পনা চাওলা রোডে আসতে বলে। সরল বিশ্বাসে ব্যবসায়ী তাঁর ভাই ও এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল দুষ্কৃতী দলটি। ব্যবসায়ী টাকা নিয়ে পৌঁছানোমাত্রই অভিযুক্তরা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে ব্যবসায়ী, তাঁর ভাই ও বন্ধুকে বেধড়ক মারধর করে টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। তদন্তে নেমে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ও গোপন খবরের ভিত্তিতে ১১ জুন দেবসান্দ্রা এলাকা থেকে প্রথম ৪ জনকে আটক করে। ম্যারাথন জেরার মুখে ধৃতরা স্বীকার করে যে, তারা আরও ৮ জন সহযোগীকে নিয়ে এই ছিনতাইয়ের ছক কষেছিল। পুলিশি জেরায় পরে আস্তে আস্ত সব দুষ্কৃতীদের নাম সামনে আসতে থাকে। শেষ মেশ পুলিশি অভিযানে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও, আরও একজন অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাকে খোঁজার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পুলিশ উদ্ধার হওয়া টাকা ও জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করে ঘটনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।