নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাসপোর্ট জালিয়াতির তদন্তে নেমেছে ইডি। এই সূত্রে খড়দহের এক পরিবহণ ব্যবসায়ীর ঘনঘন থাইল্যান্ড যাতায়াত এখন তাদের নজরে। ভুয়ো ভারতীয় নথি দিয়ে পাসপোর্ট কেনার পর অনুপ্রবেশকারীরা যে টাকা দিয়েছে, তা ওই ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে কি না জানতে চাইছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই সংক্রান্ত কিছু প্রাথমিক তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। থাইল্যান্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে কার কার সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর যোগাযোগ রয়েছে, তা জানতে সক্রিয় ইডি।
ইডি জানতে পারে, এই কাণ্ডের কিংপিন আজাদ নামে এক পাকিস্তানি নাগরিক। বাংলায় তার একাধিক এজেন্ট রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনাসহ একাধিক জেলায়। আজাদের ‘ডানহাত’ বলে পরিচিত নদীয়ার বাসিন্দা ইন্দুভূষণের কাছে দালাল মারফত আসত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। ভুয়ো ভারতীয় নথি দিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে তৈরি হতো পাসপোর্ট। এক একটি পাসপোর্টের জন্য নেওয়া হতো ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা! ইডি অফিসাররা জানতে পারেন, এই টাকা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে হাওলা করে বিদেশে পাচার হচ্ছে। থাইল্যান্ড এবং দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় তা ‘পার্ক’ করা রয়েছে।
সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা খড়দহ এলাকার ওই পরিবহণ ব্যবসায়ীর কথা জানতে পারেন। লোকটি পরিবহণ ব্যবসার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচারও কারবারি। ইডির কাছে আসা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইন্দুভূষণের। পরে ইন্দুভূষণেরই মাধ্যমে আজাদের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর পরিচয় হয়। পাসপোর্ট জালিয়াতি করে হাতানো নগদ টাকা ওই ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দিত এই ইন্দুভূষণ। কিছুটা তার ব্যবসায় লগ্নি হতো, বাকিটা বেআইনিভাবে বদলে ফেলা হতো ডলারে। অতঃপর, সেসব পাচার করে দেওয়া হতো থাইল্যান্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে। ব্যবসায়ীর পাসপোর্ট থেকে তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, মাসের অর্ধেক সময় হয় দুবাই অথবা থাইল্যান্ডে থাকত ওই ব্যবসায়ী। সেখানে তার একাধিক ব্যবসা রয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, হাওলার মাধ্যমে পাচার হওয়া টাকা বিদেশেও ওই ব্যবসায়ীর কারবারে খাটছে। এই বিষয়েই তাকে দীর্ঘ জেরা করা হয় বলে ইডি সূত্রে খবর। এদিকে, পাসপোর্ট অফিসের সামনে পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য যে অনলাইন কেন্দ্র রয়েছে সেখান থেকে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখছেন, পাসপোর্টের আবেদনের সময় মেল আইডি ও ফোন নম্বর কী দেওয়া হয়েছিল। সিমগুলি কাদের নামে ইশ্যু হওয়া। তদন্তে ধরা পড়েছে, এক সিম নম্বর দিয়ে অনেকগুলি আবেদন করা হয়েছে। এর সূত্র ধরে জানার চেষ্টা চলছে, পাসপোর্ট ইশ্যু হয়েছে ঠিক কতগুলি।