নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে আসা লিঙ্ক ক্লিক করে সারেঙ্গার এক ব্যবসায়ী আড়াই লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। তাঁর দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা কাটা গিয়েছে বলে ব্যবসায়ী অনলাইনে সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানিয়েছেন। ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির জন্য ওই টাকা তিনি রেখেছিলেন। ফলে টাকা খুইয়ে ওই ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।
জয়ন্ত হালদার নামে ওই ব্যবসায়ী বলেন, গত ২৭মে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ প্রথমে প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ কল করে ফোন আপডেট করতে বলে। ব্যস্ত থাকার কারণে আমি ফোন কেটে দিই। তারপরে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। তাতে একটি লিঙ্ক ছিল। তা ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটতে শুরু করে। আমি ব্যাঙ্কের ডেবিট মেসেজ পেতে শুরু করি। তখন ফোনটি কিছুক্ষণের জন্য সুইচ অফ করে দিই। তা সত্ত্বেও টাকা কাটা বন্ধ হয়নি। আমার দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট আড়াই লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছে। বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্ট দু’টিতে ৫৫ টাকা ও ৩৫২ টাকা পড়ে রয়েছে। বাকি সব টাকা প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমি প্রথমে সারেঙ্গা থানাই যাই। থানার পুলিস আমাকে অনলাইনে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়। সেইমতো অভিযোগ জানিয়েছি। ওটিপি শেয়ার না করা সত্ত্বেও আমি টাকা হারিয়েছি। অন্য কেউ যাতে ওই ফাঁদে না পড়েন, সেই ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে বলব।
উল্লেখ্য, এর আগে ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করে ভালো রিটার্ন পাওয়ার লোভে অনেকে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। হীড়বাঁধের বাসিন্দা এক স্কুল শিক্ষক ২১ লক্ষ টাকা প্রতারকদের পাঠিয়েছিলেন। বাঁকুড়া শহরের দুই ব্যবসায়ী প্রায় ১ কোটি টাকা খুইয়েছেন। বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা এক বৃদ্ধও সারা জীবনের সঞ্চয় প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে হারিয়েছেন। তাঁরা বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। সাইবার ক্রাইম থানার এক আধিকারিক বলেন, ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা কয়েকজনের টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করেছি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতারকরা টাকা গায়েব করে নেওয়ায়, তা বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতারিতদের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয় না। ওটিপি শেয়ার করার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই সচেতন হয়েছেন। ফলে প্রতারকরা আর ওটিপি পাঠিয়ে তা জানতে চায় না। পরিবর্তে মেসেজ মারফত লিঙ্ক পাঠিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চক্র সক্রিয় হয়েছে। অজানা লিঙ্কে ক্লিক না করার পরামর্শ আমরা দিয়ে থাকি। তা মোবাইলে আসা মাত্র ডিলিট করে দেওয়া ভালো। প্রয়োজনে পুলিসের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা যেতে পারে।