Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পিস্তলের আদলে গ্যাস লাইটার দেখিয়েই ব্যবসায়ীকে অপহরণ

পিস্তলের আদলে গ্যাস লাইটার দেখিয়েই ব্যবসায়ীকে অপহরণ
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নিখুত পরিকল্পনা করেই সালানপুরের ব্যবসায়ী শামসুল আনসারিকে অপহরণ করা হয়। ওই ব্যবসায়ী সালানপুরের কালীপাথরের বাড়ি থেকে মিহিজামের রাস্তায় যাচ্ছিলেন। তাঁর বা‌ই঩কের সামনে বোলেরো গাড়ি দাঁড় করিয়ে বুকে ঠেকানো হয় ‘পিস্তল’। আদতে সেটি ছিল একটি গ্যাস লাইটার। পিস্তলের আদলের সেই গ্যাস লাইটার দেখিয়েই ব্যবসায়ীকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। অপহরণকারীদের কাছ থেকে সেটি উদ্ধারও করেছে পুলিস।

Advertisement

পুলিসের দাবি, পুরো ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ঝাড়খণ্ডের মিহিজামের কুখ্যাত দুষ্কৃতী কার্তিক ধীবর। পুলিস যে চার অপরহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে, তার মধ্যে অন্যতম সে। তার বিরুদ্ধে মিহিজামে একাধিক খুন ও অপহরণের মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিককালে সে সালানপুর ও চিত্তরঞ্জন থানা এলাকার ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে ও অপহরণ করে টাকা লুটের কাজ শুরু করেছিল। এক্ষেত্রেও পুরো টিমের সর্দার কার্তিক বলেই পুলিস মনে করছে। ডিসি(পশ্চিম) সন্দীপ কাররা বলেন, কার্তিকই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
মঙ্গলবার সকালে অপহৃত হয়েছিলেন গোরু ব্যবসায়ী শামসুল আনসারি। তারপরই তাঁর বাড়িতে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করে কার্তিক। প্রথমে সে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। পরে ব্যবসায়ীর পরিবারের সঙ্গে কার্তিকের দরদাম চলতে থাকে। সেই কথোপকথনই পুলিসকে কার্তিক ও তার টিমের নির্দিষ্ট অবস্থান জানতে সাহায্য করে। টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিস জামুড়িয়া থানার বীরকুল্টি শ্মশানকালী মন্দিরের কাছ থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। কিন্তু কার্তিক কেন ফোনে কথা বলার সাহস দেখাল? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অপরাধমূলক কার্যকলাপ একাধিকবার করে সফল হয়েছে কার্তিক। তাই তার আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে উঠেছিল। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানায় অনেকে গোরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের অনেকেই অবৈধ কারবারি। কার্তিক সেই কারবারিদের অপহরণ করে টাকা আদায় করে। বহুক্ষেত্রেই অবৈধ কালো টাকা হওয়ায় বিষয়টি পুলিসের নজরে আনা হয় না। বরং মুক্তিপণ দিয়ে ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরকম একাধিক ঘটনা ঘটিয়ে কার্তিকের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে উঠেছিল। এক্ষেত্রেও সে ভেবেছিল, ব্যবসায়ীর পরিবার পুলিসকে কিছু জানায়নি। কার্তিকের অত্যাচারে ব্য‌বসায়ীরা অতিষ্ঠ ছিল। তাই গ্রেপ্তার হতেই অভিযুক্তকে পুলিসের গাড়ি থেকে নামিয়ে সকলে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। 
জানা গিয়েছে, মিহিজাম থানা এলাকার একটি গ্রামে কার্তিকের বাড়ি। অল্প বয়স থেকেই তার অপরাধে হাতেখড়ি। জুয়াখেলা ও চুরির ঘটনায় একাধিকবার নাম জড়ানোয় তার বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। স্ত্রীও কার্তিকের থেকে আলাদা হয়ে যায়। তারপর মিহিজামে নিজের ডেরা বানিয়ে অপরাধ কার্যকলাপ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেয় সে। নিজের দল তৈরি করে অপহরণ, তোলাবাজি শুরু করে। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও রয়েছে মিহিজাম থানায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ