নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শ্রীরামপুরের গঙ্গার সুরকিঘাটে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হল এক মাছ ব্যবসায়ীর। তারপরেই মহকুমা শাসক ওই ঘাট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। এই প্রথম হুগলি জেলার কোনও বিপজ্জনক ঘাটকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। মহকুমা প্রশাসনের ওই ভূমিকার প্রশংসা শোনা গিয়েছে নাগরিক মহলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সুরকিঘাটে স্নান করতে নেমেছিলেন মাছ ব্যবসায়ী সঞ্জয় সাউ (৩৭)। কিন্তু ঘাটের কাছেই ঘূর্ণিতে তিনি তলিয়ে যান। গভীর রাতে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তিনি ২৮৫ নম্বর জিটি রোড এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রসঙ্গত, ২৫ মে ওই সুরকিঘাটেই তলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল একসঙ্গে তিন নাবালক, নাবালিকার।
ওই ঘটনার পর বুধবার সকালে শ্রীরামপুর ও রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান, সেচদপ্তরের কর্তাদের নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে আসেন শ্রীরামপুরের মহকুমা শাসক। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকা ঘুরে দেখেন মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার। তারপরে তিনি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই ঘাট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। মহকুমা শাসক বলেন, গত দেড় মাসে সুরকিঘাটে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাই আমরা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছি। দেখা যাচ্ছে ভৌগলিক কারণেই এই ঘাটের কাছেই বাঁক এবং ঘূর্ণি তৈরি হয়েছে। সাঁতার জানলেও সেখানে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ভালোই। তাই ঘাটটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তার কারণেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মহকুমা শাসককে সাধুবাদ জানিয়ে শহরের সাংস্কৃতিক কর্মী সমীর সাহা বলেন, হুগলিতে সাম্প্রতিক সময়ে গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মহকুমা শাসকের ঘাট বন্ধ করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত খুবই সময়োচিত।
এদিন মহকুমা শাসকের সিদ্ধান্তের পরেই ওই ঘাট ঘিরে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। হুগলির শ্রীরামপুরের পাশাপাশি, কোন্নগর, শেওড়াফুলি ও উত্তরপাড়াতেও সাম্প্রতিক সময়ে বারবার গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এই অবস্থায় ওই ঘাটগুলি নিয়েও প্রশাসনের পদক্ষেপের দাবি এদিনের পরে আরও জোরালো হয়েছে।