Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪০ লাখের ঋণ, আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে আত্মঘাতী ব্যবসায়ী

পাওনাদারদের চাপে আত্মঘাতী হলেন এক ব্যবসায়ী। সোমবার রাত বারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে হরিদেবপুর থানা এলাকার মাঝের পাড়াতে।

৪০ লাখের ঋণ, আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে আত্মঘাতী ব্যবসায়ী
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাওনাদারদের চাপে আত্মঘাতী হলেন  এক ব্যবসায়ী। সোমবার রাত বারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে হরিদেবপুর থানা এলাকার মাঝের পাড়াতে। সব্যসাচী চক্রবর্তী (৫২)  নামে ওই ব্যবসায়ী  হরিদেবপুরে তুতো ভাইয়ের বাড়িতে সিলিং ফ্যানে বেড শিট বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। ওই ভাইয়ের বাড়িতেই থাকছিলেন সব্যসাচীবাবু। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কারা তাঁকে চাপ দিচ্ছিল, সেটি জানার চেষ্টা করছেন অফিসাররা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর. নদীয়ার নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা সব্যসাচীবাবুর ঠিকাদারি কারবার রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার তিনি ধরতেন। রাস্তাঘাট, ব্রিজ নির্মাণ, বহুতল তৈরি থেকে শুরু করে একাধিক কাজ করত তাঁর কোম্পানি। নিজের জেলা ছাড়াও বাইরের জেলায় কাজ করছিলেন। বিগত কয়েকবছরে তাঁর ব্যবসা বেশ ভালোই বেড়েছিল। ঠিকাদারি ব্যবসায় অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে সবাইয়ের চেয়ে কম দরপত্র দিতেন। টেন্ডার ধরার জন্য নিজের সম্পত্তি ব্যাংক সহ বিভিন্নব্যক্তির কাছে মর্টগেজ রেখে টাকা ধার নিয়েছিলেন। এমনকী বিভিন্ন বন্ধকী সংস্থা থেকেই ঋণ নিয়েছিলেন ব্যবসার জন্য। যে পরিমাণ আয় হচ্ছিল, তার চাইতে ঋণের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল বলে জেনেছে পুলিশ। তাই ঋণ শোধ করতে পারছিলেন না। যে সমস্ত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যাঙ্কের কাছে ঋণ নিয়েছিলেন  তারা ওই ব্যবসায়ীকে  টাকা শোধের জন্য চাপ দিতে থাকে। সেইসঙ্গে তাঁর বাড়িতে আসতে শুরু করেন পাওনদাররা। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতেই হরিদেবপুর এলাকায় মাঝের পাড়াতে তুতো ভাইয়ের বাড়িতে চলে আসেন চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি। সেখানেই থাকছিলেন। যাতে পাওনাদরারা তাঁকে খুঁজে না পায়। কিন্তু পাওনাদাররা ক্রমাগত তাঁকে ফোন করছিলেন টাকার জন্য। পুলিশ জেনেছে, সোমবার রাতে জেমস লং সরণিতে একটি কালীপূজোয় যোগ দিতে যান সব্যসাচী ও তাঁর তুতো ভাই। রাত নটা নাগাদ সেখানে দুজনে মিলে মদ্যপান করেন। ওই ব্যবসায়ী একাই আগে তুতো ভাইয়ের বাড়িতে চলে আসেন। রাত পৌনে বারোটা নাগাদ তুতো ভাই বাড়িতে ফিরে দেখেন বেড শিট গলায় জড়িয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন সব্যসাচী। তিনি বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। ঘটনার খবর পেয়ে আসে হরিদেবপুর থানা। তাঁর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ব্যবসায়ীর ছেলেকে ডেকে পাঠায়। তাঁর সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সব্যসাচীবাবুর ঠিকাদারি ব্যবসা ছিল। সম্পত্তি মর্টগেজ রেখে বিপুল টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। টাকা শোধ করার জন্য পাওনাদারদের তরফে বিপুল চাপ আসছিল তাঁর উপর। তদন্তকারীদের অনুমান এই কারণে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই ঠিকাদার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ