নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও কলকাতা: মঙ্গলবার রাতে হাওড়া স্টেশনে রাঁচিগামী ট্রেনে ঝাড়খণ্ডের স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর ও লুটের ঘটনায় আরও তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আগে গ্রেফতার হওয়া ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বুধবার গভীর রাতে টিকিয়াপাড়া থেকে বিহার গ্যাংয়ের এই তিনজনকে ধরা হয়। ধৃতদের নাম মহম্মদ রব্বান, মহম্মদ ইকবাল ও বিবেক কুমার। এদের বাড়ি বিহারের বেগুসরাই। তবে দলের ‘কি-ম্যান’ লুটের গয়না নিয়ে এখনও ফেরার। সে বেগুসরাইয়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে সন্দেহ করছে রেল পুলিশ। টিপারদের থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক কুমারের যাবতীয় তথ্য নিয়ে তাঁকে পিছু ধাওয়া করে অপারেশন চালিয়েছিল সাতজনের কুখ্যাত গ্যাংটি।
কলকাতার বড়বাজার থেকে এক কেজিরও বেশি সোনার অলঙ্কার কিনে ব্যাগে ভরে মঙ্গলবার রাত ন’টা নাগাদ হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সের ২২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্রীড়াযোগা এক্সপ্রেসে ওঠেন ব্যবসায়ী দীপকবাবু। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়বাজার থেকেই এক টিপার এই তথ্য দুষ্কৃতী দলটিকে দেয়। দলটি সেখান থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত দীপকবাবুর পিছনে যায়। কলকাতা ও হাওড়া স্টেশনের একাধিক সিসি ক্যামেরায় দুষ্কৃতীদের ছবিও ধরা পড়েছে। ট্রেনে উঠতেই চার দুষ্কৃতী স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর করে সোনার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। বাকি তিনজন যাত্রী সেজে কামরাতেই বসেছিল। রাতেই রেল পুলিশের অভিযানে ধরা পরে তিন দুষ্কৃতী। দলের বাকি চারজন গা ঢাকা দেয় টিকিয়াপাড়া এলাকায়। সেখান থেকে দলের ‘কি-ম্যান’ সোনার ব্যাগ নিয়ে একাধিক বার রুট পরিবর্তন করে চলে যায় বিহারে।
গা ঢাকা দেওয়া দুষ্কৃতীদের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে বুধবার রাতে টিকিয়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের ধরে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৯ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। মামলার সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক বলেন, ‘মূল অভিযুক্ত লুটের জিনিস নিয়ে বেগুসরাইয়ে পালিয়ে গিয়েছে। তার খোঁজ চলছে।’
রেল পুলিশ জানিয়েছে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী কবে, কীভাবে কলকাতা আসছেন, সেই সম্পর্কে বিহার বা ঝাড়খণ্ড থেকেও কোনও টিপার দলটিকে সাহায্য করছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের কুখ্যাত এই লুটেরা গ্যাংয়ের ইকবাল ও রব্বানের নানা কীর্তিকলাপ রেকর্ড রয়েছে রেল পুলিশের খাতায়। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি চলন্ত ট্রেনেও একাধিক লুটের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিহার, ঝাড়খণ্ড তো বটেই এরাজ্যেরও বিভিন্ন বড়বড় সোনার দোকানের আশেপাশে টিপার ‘সেট’ করা রয়েছে তাদের। অপারেশন মিটলে মোটা টাকা দেওয়া হয় টিপারদের। দলটির মোডাস অপারেন্ডি হল, কোনও জায়গায় লুটপাট করার পর প্রত্যেকেই বিভিন্ন রুটে পালিয়ে গিয়ে বিহারের বেগুসরাইয়ে গা ঢাকা দেয়। সেখানেই কোনও একটি ডেরায় লুট করা সোনার ভাগ বাটোয়ারা হয়। তারপর কিছুদিন চুপচাপ থেকে ফের নতুন অপারেশন।