Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জিএসটিতে ১০ কোটির প্রতারণা, শহরে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী

জিএসটি দপ্তর সূত্রে খবর, কলকাতা সহ অন্যান্য রাজ্যে গুরপ্রীতদের একাধিক কোম্পানি রয়েছে

জিএসটিতে ১০ কোটির প্রতারণা, শহরে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাঁচামাল কেনার ভুয়ো বিল জমা করে জিএসটি দপ্তর থেকে আইটিসি (ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট) বাবদ তুলে নেওয়া হয়েছে ১০ কোটি টাকা। এই প্রতারণার অভিযোগে গুরপ্রীত সিং নামে এক ব্যবসায়ীকে মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করলেন ‘সেন্ট্রাল গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স’-এর অফিসাররা। 

Advertisement

জিএসটি দপ্তর সূত্রে খবর, কলকাতা সহ অন্যান্য রাজ্যে গুরপ্রীতদের একাধিক কোম্পানি রয়েছে। কোথাও জামাকাপড়, কোথাও লেদারের সামগ্রী, কোথাও আবার বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন হয়। এই সংস্থাগুলি বিদেশেও পণ্য রপ্তানি করে। বাবা অসুস্থ হওয়ায় ছেলে গুরপ্রীতই কোম্পানির সমস্ত কাজকর্ম দেখভাল করছিলেন। এই অবস্থায় জিএসটি দপ্তরের নজরে আসে, বিগত আর্থিক বছরে এই কোম্পানিগুলি ১০ কোটি টাকার আইটিসি রিটার্ন তুলে নিয়েছে। কীভাবে তারা এই বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নিল, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। আইটিসি তোলার জন্য কেনাকাটার যেসব বিল জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি নিয়ে কাঁটাছেঁড়া শুরু করেন তদন্তকারীরা। বিলে যেসব কোম্পানি থেকে পণ্য কেনা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে, সেগুলির অস্তিত্ত্ব আদৌ আছে কি না, যাচাই করতে আরওসি থেকে নথি সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, সেগুলি সবই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। নির্দিষ্ট ঠিকানা রয়েছে। কোম্পানির আয়কর রিটার্নের নথি সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, বার্ষিক রিটার্ন প্রতি বছর জমা পড়েছে যথারীতি। প্রতি বছর ‘টার্নওভার’ বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এরপর সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় যান তদন্তকারীরা। তারপরই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। দেখা যায়, কেনাকাটা করা হয়েছে যেসব কোম্পানি থেকে, সেগুলির কোনও অস্তিত্ত্বই নেই। অথচ ওই ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অফিস দেখিয়ে বিল তৈরি হয়েছে। অফিসারদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, কাগুজে কোম্পানি খুলে সেখান থেকে কেনাকাটার বিল তৈরি করে তা জমা করা হয়েছে জিএসটি দপ্তরে। ভুয়ো লেনদেন দেখিয়ে বলা হয়েছে, পণ্যগুলি কেনার সময় তারা জিএসটি দিয়েছে। তাই আইটিসি রিটার্ন দেওয়া হোক। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর নোটিস পাঠিয়ে বেশ কয়েকবার ডেকে পাঠানো হয় অভিযুক্তকে। কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্তাদের দাবি, কোনওবারই তিনি আসেননি। 
এরপর মঙ্গলবার রাতে তল্লাশি চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। তাঁর আইনজীবী সুব্রত সর্দার আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। অভিযুক্তের সঙ্গে কোম্পানির কোনও সম্পর্ক নেই। সরকারি আইনজীবী বলেন, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও নথি হাতে আসার পরই গুরপ্রীতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা যায়, ওই ব্যবসায়ী নিজেই একাধিক কাগুজে কোম্পানি খুলেছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তিকে এই কোম্পানিগুলির ডিরেক্টর করেছিলেন। সত্যিকারের কোম্পানিগুলি সেখান থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল কিনেছে বলে দেখানো হয়। এমনকী, ভুয়ো বিল বিক্রি করে, এমন কারবারির কাছ থেকেও তিনি বিল কিনেছেন বলে অভিযোগ। 

সম্পর্কিত সংবাদ