৪১ প্যান কার্ডে ১০০ অ্যাকাউন্ট, ১৪৪ কোটি ঋণ, দমদমে ইডির হাতে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে মঙ্গলবার ইডির হাতে ধৃত ব্যবসায়ী হরিশ বাগেলার হেফাজত থেকে মিলল ৪১টি প্যান কার্ড। পাওয়া গিয়েছে শতাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ। অভিযোগ, একের পর এক কাগুজে কোম্পানির নানা ভুয়ো নথিপত্র পেশ করে দফায় দফায় একাধিক ব্যাঙ্ক থেকে ওই বিপুল টাকা হাতিয়ে নেন ওই ব্যবসায়ী। ইডি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুরে ইডির আধিকারিকরা উত্তর শহরতলির দমদমের যশোর রোড থেকে গ্রেপ্তার করে হরিশকে। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ ৪৯ লক্ষ টাকা। পরে তাঁকে জেরা করে আরও ১৮ লক্ষ টাকার হদিশ পান ইডির তদন্তকারীরা। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয় বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁকে একদিনের ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। মেয়াদ শেষে এদিন তাঁকে কলকাতার বিচারভবনের মুখ্য বিচারক সুকুমার রায়ের এজলাসে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ২৫টির বেশি বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ভুয়ো নথি দিয়ে ওই টাকা হাতানোর অভিযোগ ওঠে। বিশ্বাস অর্জনের জন্য ব্যাঙ্কের কাছে জমা দেওয়া হয় কাগুজে কোম্পানিগুলোর কোটি কোটি টাকা আয়ের ভুয়ো নথিপত্র। তার ভিত্তিতে ওই বিপুল টাকা জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১২‑১৩ সাল থেকে ওই আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। এদিন ইডির তরফে আদালতে বলা হয়, ওই ব্যবসায়ীকে জেরা করে যে সমস্ত তথ্য উঠে আসে, তার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি যে ৪১টি প্যান কার্ড ও শতাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে, সেখানে কীভাবে ওই বিপুল টাকা এক ব্যাঙ্ক থেকে অন্য ব্যাঙ্কে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, তা নিয়েও তদন্ত করছেন ইডির আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, বেশ কয়েক বছর আগে ওই ব্যবসায়ীর খোলা কাগুজে কোম্পানি ও ব্যাঙ্ক প্রতারণা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও খোঁজখবর নেয় কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের তদন্তকারী শাখা এসএফআইও। মঙ্গলবার দুপুরে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁকে তাঁর কাগুজে কোম্পানি সংক্রান্ত নানা জেরা শুরু করেন ইডির আধিকারিকরা। কিন্তু তাঁর কথাবার্তার মধ্যে নানা অসঙ্গতি মেলায় সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে, যে সমস্ত ব্যাঙ্ক থেকে ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে, কী করে সমস্ত নথি যাচাই না করে ওই বিপুল টাকা ‘ছাড়পত্র’ দিল তারা, তা নিয়েও খোঁজখবর নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ওই তদন্তকারী সংস্থা।