কানপুর: গ্রেপ্তারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিন ল্যাম্বরগিনি কাণ্ডে অভিযুক্ত শিবম মিশ্রর। বৃহস্পতিবার ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের একটি আদালত। শিবম কানপুরের তামাক ব্যবসায়ী কে কে মিশ্রের ছেলে। মধ্য কানপুরের ডিসিপি অতুল কুমার শ্রীবাস্তব জানান, শিবম শহরেই রয়েছেন জানতে পেরে তাঁর সন্ধানে পাঁচটি দল গঠন করা হয়। তারপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন আদালতে পেশ করে অভিযুক্তের ১৪ দিনের হেপাজত চায় পুলিশ। যদিও আদালতে পুলিশের বক্তব্য ধোপে টেকেনি। শিবমের আইনজীবী নরেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী জানান, ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে শিবমের জামিন মঞ্জুর হয়েছে। আমার মক্কেলকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’
গত রবিবার বিকেলে কানপুরের ভিআইপি রোডে এক ই-অটোরিকশ চালক সহ তিনজনকে ধাক্কা মারে শিবমের ল্যাম্বরগিনি। অভিযুক্তের বাবা কে কে মিশ্রর দাবি, দুর্ঘটনার সময়ে চালকের আসনে ছিলেন পরিবারের ড্রাইভার মোহন। তিনি আরও জানান, গাড়িটিতে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। গাড়িটিকে পরীক্ষা করার জন্যই ড্রাইভারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন শিবম। অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, শিবম এপিলেপ্সিতে আক্রান্ত। দিল্লিতে তাঁর চিকিৎসা চলছে। যদিও পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময়ে যে চালকের আসনে শিবমই ছিলেন, তদন্তে তা প্রমাণিত।
ঘটনার পরই অভিযুক্তকে আড়ালের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে যোগীরাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেন মিশ্র পরিবারের ড্রাইভার মোহন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘শিবম আমার পাশে বসেছিল। দুর্ঘটনার আগে হঠাৎ করেই ওর খিঁচুনি শুরু হয়। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন শিবম। ওকে সামলানোর চেষ্টা করতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির স্বয়ংক্রিয় লকিং ব্যবস্থার জন্য বাইরে আসতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই বাধ্য হয়ে শিবমকে চালকের আসনে বসিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসি।’ তবে অভিযুক্তের তালিকায় নাম না থাকায় মোহনের আত্মসমর্পণের আরজি খারিজ করে দেয় আদালত। ঘটনার পরেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জখম ই-রিকশ চালক মহম্মদ তৌফিক। পরে অবশ্য শিবমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সূত্রের খবর, ঘটনার দিনই গোয়ালতোলি থানায় গিয়েছিলেন তৌফিক। সেখানেই স্টেশন হাউজ অফিসার সন্তোষ কুমার গৌরের উপস্থিতিতে সমঝোতা করেন তিনি। পরে অবশ্য দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সন্তোষকে লাইনসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।