Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেল করে ১৪ লক্ষ হাতানোর অভিযোগ

এক ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেল করে ১৪ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে তরুণীর বিরুদ্ধে। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তরুণীর পরিচয়।

ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেল করে ১৪ লক্ষ হাতানোর অভিযোগ
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেল করে ১৪ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে তরুণীর বিরুদ্ধে। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তরুণীর পরিচয়। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে চ্যাট হয়েছে। সেসব চ্যাট ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল শুরু করে তরুণী। ধাপে ধাপে ১৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও আরও টাকা দাবি করায় শেষমেশ ওই ব্যবসায়ী আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় ওই ব্যবসায়ীর। প্রোফাইলে তার নাম স্নেহা। প্রথমে ফেসবুকে কথাবার্তা হতো দু’জনের। ব্যবসায়ী যুবক ওই বান্ধবীর পরিচয় জানতে চাইলে সে একটি আধার কার্ডের ছবি পাঠায়। তাতে অভিপর্ণা নাম ছিল। দু’রকম নাম কেন, প্রশ্ন করলে তরুণী জানায়, প্রোফাইলে অন্য নাম দিয়েছে। তার আসল নাম আধার কার্ডেই লেখা। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। নিয়মিত কথা হয়, উত্তেজক মেসেজও আদানপ্রদান হয়। কিছুদিন পর ওই তরুণী কখনও মায়ের ওষুধ কেনার জন্য, আবার কখনও মুদি দোকানের সামগ্রী কেনার জন্য টাকা চাইতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টিকে পাত্তা দেননি ওই ব্যবসায়ী। এরপর তাঁকে মেডিকেল বিলও পাঠায় অভিযুক্ত। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় ঋতুপর্ণা নাম নিয়ে এক তরুণী ওই ব্যবসায়ীকে ফোন করে বলে, স্নেহার সঙ্গে যে সমস্ত চ্যাট হয়েছে, সেগুলি ভাইরাল করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে স্নেহা তাঁর বাড়িতে গিয়ে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। একথা শুনে ভয় পেয়ে যান ওই ব্যবসায়ী। এরপর ওই তরুণীর দাবি মতো ধাপে ধাপে ১৪ লক্ষ টাকা দেন বলে অভিযোগ। অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো হয়। তারপরেও আরও টাকা দাবি করতে থাকে তরুণী। বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসে। প্রতারকের পাল্লায় পড়েছেন বুঝতে পেরে ওই ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে পুলিশের অনুমান  স্নেহা, অভিপর্ণা, ঋতুপর্ণা এই তিন তরুণী আসলে একই মহিলা। ভিন্ন নামে গলা পালটে ফোন করেছে সে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার একাধিক প্রোফাইল রয়েছে। তার সূত্র ধরে আইপি অ্যাড্রেস জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে অ্যাকাউন্টগুলি কাদের নামে রয়েছে, কবে খোলা হয়েছে, কোন কোন এটিএম থেকে টাকা তোলা হয়েছে, তার তথ্য চাওয়া হয়েছে ব্যাংক থেকে। পাশাপাশি তরুণী সেজে কোনো ব্যক্তি ওই ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেল করেছে কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ