সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পেট্রল, ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল আমজনতা। সংসার চালাতে নাজেহাল নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত মানুষ। এরই মধ্যে বীরভূম জেলাজুড়ে নকল পেট্রল ও ভেজাল ডিজেল রমরমা ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড থেকে অবাধে বাংলায় ঢুকছে নকল পেট্রল। একইভাবে দুর্গাপুর থেকে চোরাই পথে নিয়ে আসা হচ্ছে কাটাই ডিজেল। তার সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে চলছে বিক্রি। সরকার অনুমোদিত পাম্পের থেকে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে সেই ডিজেল। বেআইনি তেলের কারবারের জন্য বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সব জেনেও প্রশাসন নির্বিকার বলে অভিযোগ।
জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, এর আগেও এই ধরনের অভিযোগ এসেছে। অভিযান হয়েছে। ধরাও পড়েছে। ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এখন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জন্য বলা হবে।
ঝাড়খণ্ড থেকে বীরভূমে ঢোকার ১৩টি ‘পয়েন্ট’ রয়েছে। সেখানে পুলিশ নিয়মিত নাকা তল্লাশি চালায় বলে দাবি। এরই ফাঁক গলে ঝাড়খণ্ড থেকে অবাধে এ রাজ্যে ঢুকছে নকল পেট্রল। ঝাড়খণ্ডের কারবারিদের টাগের্ট বীরভূমের পাথর শিল্পাঞ্চল ও সীমানা ঘেঁষা গ্রামগুলি। কারণ, শহরগুলিতে পেট্রল পাম্প রয়েছে। গ্রামে সেই সুবিধে নেই। বর্তমানে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই মোটর বাইক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডে কেরোসিনে কেমিক্যাল ও রঙ মিশিয়ে নকল পেট্রল তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। সেগুলিই সীমানা পেরিয়ে বীরভূমে ঢুকছে। বিভিন্ন এলাকার রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে সেসব সরবরাহ করা হচ্ছে। দু’ দিন অন্তর টোটোয় পেট্রল ভর্তি ড্রাম চাপিয়ে হাজির হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের কিছু লোক। দাম লিটার প্রতি ৮৫ টাকা। সেখানে বাংলার পাম্পে লিটার প্রতি দাম প্রায় ১০৬ টাকা। রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে দু’ ধরনের পেট্রলই লিটার প্রতি ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। লাভ বেশি হওয়ায় ঝাড়খণ্ডের পেট্রলই বেশি বিক্রি করেছেন তাঁরা। রামপুরহাটে এমনই রাস্তার ধারের এক পেট্রল বিক্রেতা বলেন, ঝাড়খণ্ডের পেট্রলের দাম এখানকার তুলনায় অনেক কম। তাই রাখি। তবে পরিচিত বাইক চালকদের দিই না। কারণ, নকল পেট্রলে ক্ষতিকারক ভেজাল থাকে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়। তবে পেট্রলের আসল এবং নকল ফারাক করা খুবই সহজ। একটি সাদা কাগজে কালির কলম দিয়ে কিছু লিখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর সেই লেখার উপর একটু নকল পেট্রল দিন। দেখবেন লেখাগুলি ছেৎরে গিয়েছে। আসল পেট্রল হলে তা হবে না। আসল পেট্রল উবে যাবে। লেখা যেমন ছিল, তেমনই থাকবে। তাছাড়া আসল পেট্রলের গন্ধ কড়া। নকল পেট্রলে ক্ষতিকারক পদার্থের ভেজালের কারণে এর গন্ধ কিছুটা আলাদা এবং হালকা হয়।
একইভাবে ভেজাল ডিজেলের রমরমা বেড়েছে। সূত্রের দাবি, দুর্গাপুরের ইন্ডিয়ান অয়েল এবং বিপিসিএল ডিপো থেকে কাটাই ডিজেল ৮০ টাকা লিটার দরে নিয়ে আসা হচ্ছে মহম্মদবাজারের খয়রাকুড়িতে। সেখানে ওই তেলের সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে পরিমাণে বাড়িয়ে মূলত পাথর শিল্পাঞ্চলগুলিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিজেলের সরকারি বাজার দর ৯২ টাকা ৬৬ পয়সা। সেখানে ওই ভেজাল ডিজেল লিটার পিছু ৪ টাকা কম দরে বিক্রি করছে অসাধু কারবারিরা।
রামপুরহাটের এক পাম্প মালিক সায়ন হাজরা বলেন, নকল পেট্রল ও ভেজাল ডিজেল রমরমা হওয়ায় আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। তেমনি বাইক থেকে চারচাকা গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে। এই বেআইনি কারবার বন্ধ করার দাবিতে কিছুদিন আগে পাম্প ওর্নাস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জেলাশাসককে ডেপুটেশনও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই কারবার কমার বদলে দিন দিন বেড়েই চলেছে।