সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোয় এবার রেকর্ড ব্যবসা উত্তরবঙ্গে। বণিক মহল সূত্রের খবর, পুজোর ২১ দিনে উত্তরবঙ্গজুড়ে ব্যবসা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্সটাইলেই ব্যবসার পরিমাণ সর্বাধিক, প্রায় ৩৮০০ কোটি টাকা। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত বণিক মহল। তাঁদের প্রত্যাশা, দীপাবলি, কালীপুজো ও ছটপুজোয় ব্যবসা আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে শিলিগুড়িতে ইকো সেন্সেটিভ জোন (ইএসজেড) নিয়ে জটিলতা কাটানোর দাবি তুলেছে বণিক মহল। তাদের দাবি, ইএসজেডের এলাকা কমলেই এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ হবে।
বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পুজো সুষ্ঠুমতো হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালো হয়েছে বলে বণিক মহলের একাংশ জানিয়েছে। ইতিমধ্যে সিআইআই এ ব্যাপারে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে।
সিআইআই সূত্রে খবর, এবার দুর্গাপুজোর বাজার মূলত ১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত জমজমাট ছিল। তাতেই শিলিগুড়ি, মালদহ, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দুই দিনাজপুরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। এরমধ্যে ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্সটাইলে ব্যবসার পরিমাণ ৩৮০০ কোটি টাকা, যা মোট কারবারের ৩৮ শতাংশ। এরবাইরে খাবারে ১৯ শতাংশ, ইলেকট্রনিক্স ও জুয়েলারিতে ১১ শতাংশ করে, প্যান্ডেল ও বিজ্ঞাপনে ৮ শতাংশ, রিয়েল এস্টেট ও সাজসজ্জায় ৭ শতাংশ এবং অটো মোবাইলে ৬ শতাংশ ব্যবসা হয়েছে।
সিআইআইয়ের উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান সতীশ মিত্রুকা বলেন, এবার পুজোয় উত্তরবঙ্গে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। যা রেকর্ড। কালীপুজো, দীপাবলি, ছটপুজো ও ধনতেরসের ব্যবসা এখনও বাকি আছে। সংশ্লিষ্ট উৎসবগুলিতেও আরও কয়েকশো কোটি টাকার ব্যবসা হবে। বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার উৎসবের মরশুমে ব্যবসা ভালো হবে বলেই আশা করছি।
যদিও পুজোয় শিলিগুড়ির ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের আরএকটি অংশ সন্তুষ্ট নন। তাঁদের বক্তব্য, পুজোয় এখানে ১১০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম।
এদিকে, ইএসজেডের জেরে শিলিগুড়ির একাংশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কিছুটা থমকে গিয়েছে। সিআইআইয়ের উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান বলেন, এখানে ইএসজেডের এলাকা পাঁচ কিমি থেকে কমিয়ে এক কিমি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের মাধ্যমে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এবার হয়তো সংশ্লিষ্ট সমস্যা মিটবে। তা হলেই চম্পাসারি, ভক্তিনগর, মাটিগাড়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।



