নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: যাত্রী ভর্তি বাস। টিকিট কাটতে বাসের লেজের দিকে চলে গিয়েছেন কন্ডাক্টর। সেখান থেকেই চিৎকার করে বলছেন, ‘(কোনও যাত্রীর) নামার আছে, নামার আছে।’ আবার কখনও বলছেন, ‘বাঁয়ে বাইক, বাঁয়ে গাড়ি।’ কিন্তু এই চিৎকার অনেক সময়েই কানে পৌঁছচ্ছে না চালকের। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীরাও দিনের পর দিন তীব্র সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। এখন এটাই রোজকার চেনা চিত্র বারাসত থেকে বিভিন্ন রুটে যাওয়া বাসযাত্রীদের। কেন এমন হচ্ছে? কারণ সিংহভাগ বাসে নেই খালাসি। ভরসা কেবল কন্ডাক্টর।
বারাসতের চাঁপাডালি স্ট্যান্ড থেকে একাধিক রুটে বাস যাতায়াত করে। তার মধ্যে রয়েছে বারুইপুর, সাঁতরাগাছি, হাওড়া থেকে ধামাখালি। এছাড়া জাগুলিয়া, বারাকপুর, দক্ষিণেশ্বরের দিকেও বহু বাস যাতায়াত করে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই যেন আতঙ্ক বাড়ছে এইসব বাসযাত্রাকে ঘিরে। অধিকাংশ বাস ‘ফিট’ নয়। এমনকী অনেক চালকের বাস চালানোর লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। আর পর্যাপ্ত কর্মী না থাকার বিষয়টিতো প্রায় সব বাসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
সাধারণত একটি বাসে চালক ছাড়াও খালাসি ও কন্ডাক্টারের থাকার কথা। কিন্তু বারাসতের বেশিরভাগ বাসেই খালাসি নেই। কন্ডাক্টরকে একদিকে যেমন টিকিট কাটতে হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রী তোলা-নামানোও করতে হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট স্টপেজে নামার ক্ষেত্রে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক সময় দেখা যায় কন্ডাক্টার বাসের যাত্রীদের কাছে টিকিট নিতে চলে যান ভিতরের দিকে। তখন স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা বাসে উঠতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে যান। ওই বাসটি তাঁদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কেউ থাকে না।
উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে বারাসত থেকে হাওড়াগামী ‘এল ২৩৮’ রুটের বাসের কথা। অনেক ক্ষেত্রে এই বাসের আবার দুই গেট রয়েছে। দুই গেটে দু’জন কন্ডাক্টর থাকলেও নেই কোনও খালাসি। ফলে, ঝড়ের গতিতে যাওয়া এই বাসের চালককে ‘গাইড’ করার কেউ নেই। এক বাসযাত্রী রিতুন কুণ্ডু বলেন, বাসে একজন খালাসি প্রয়োজন। কিন্তু আমি বারুইপুরগামী বাসে উঠে দেখলাম একজনই ভরসা। উনিই গাড়ির পিছন থেকে চিৎকার করে ড্রাইভারকে গাইড করছেন। আর যাত্রী উঠানো-নামানোর কাজটি বেশিরভাগ সময়ে চলছে ভগবানের ভরসায়!
এ বিষয়ে উত্তর ২৪ পরগনার আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের কর্তা (আরটিও) প্রদীপ মজুমদার বলেন, ২৪ তারিখ আমাদের একটি বৈঠক রয়েছে। ওইদিন বৈঠকে এ নিয়ে উপযুক্ত আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনিয়ে বারাসত আইএনটিটিইউসির’র সভাপতি তাপস দাশগুপ্ত বলেন, একাধিকবার বাস মালিকদের বলা হয়েছে কর্মী নিতে। কিন্তু তাঁরা নেননি। তাছাড়া প্রতিটি বাসে দুটি করে গেট করার কথা বলা হলেও ‘এল ২৩৮’ রুট ছাড়া কেউই তা করেনি অতিরিক্ত লাভের জন্য। সিংহভাগ বাসে কন্ডাক্টরই খালাসি। এনিয়ে আমরা আবারও পদক্ষেপ করব। নিজস্ব চিত্র