নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোলে এসে লাগামছাড়া টোটো চলাচল নিয়ে সরব হয়েছিলেন খোদ পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি বলেছিলেন, টোটোর দাপাদাপি গোটা পরিবহণ ব্যবস্থাকেই ভেঙে দিচ্ছে। মূল রাস্তার উপর টোটো চলাচল নিয়ে সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও শিল্পাঞ্চলেজুড়ে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। রাজ্য সরকার বদলের পর থেকে এনিয়ে এখনও পর্যন্ত বড় অভিযান দেখা যায়নি। তার মধ্যেই টোটোর অত্যাচারের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকেই বারাবনি রুটে সব মিনিবাস একযোগে ধর্মঘট ডেকেছে। ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে অবশেষে টোটোর উপর লাগাম টানতে ফের অভিযানে নামছে পুলিশ ও প্রশাসন।
আসানসোলের আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক মৃন্ময় মজুমদার বলেন, আমরা শনিবার থেকেই অবৈধ টোটো চলাচল বন্ধ করতে ধারাবাহিক অভিযান চালাব। ই-রিকশকে সরকারি নির্দেশিকা মেনেই গাড়ি চালাতে হবে।
প্রায় এক দশক ধরে টোটো পরিবহণ ব্যবসায় এক সংকট তৈরি করেছে। ব্যাটারি চালিত এই গাড়ি একটা সময়ে মানুষের বহু ঝক্কি কাটিয়েছিল। প্যাডেল রিকশর ধীর গতি। দ্রুত গন্তব্যে যেতে হলে সমস্যায় পড়েতেন সাধারণ মানুষ। তার থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের মনজয় করেছিল টোটো। প্রথমদিকে কোনওরকম রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা না থাকায় এই তিন চাকা যান রক্তবীজের মতো বাড়তে শুরু করে। রাস্তার যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূল সরকারের আমলে বাস সংগঠনগুলি একাধিক বার টোটো নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ করতে থাকে। অভিযোগ, সেই আমলে ভোট ব্যাঙ্কের কথা ভেবেই সরকার কোনো দৃঢ পদক্ষেপ করেনি। এখন বাংলার সরকার বদল হয়েছে। তারপরও শিল্পাঞ্চলে টোটো নিয়ে সরকারের মনোভাব দেখে অনেকেই হতাশ। এখন ধৈয্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বারাবনি ব্লক জুড়ে মিনিবাস চলাচল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বাস চালক ও মালিকপক্ষ। তাঁদের অভিযোগ, বাসের রুটের বাসের আগে আগে একাধিক টোটো চলছে। বাসগুলি যাত্রী পাচ্ছে না। প্রতিবাদ করলে বাসের কর্মীদের মারধর করছে টোটো চালকরা। এখান থেকে ৩২টি মিনিবাস চলাচল করে। আসানসোল চুরুলিয়া, আসানসোল হরিপুর ভায়া দোমোহানি। সব রুটগুলিই এদিন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাস চালক বাপি দাস বলেন, আমাদের বাস চলাচল ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয়। সাড়ে চারটে থেকে বাসের সামনে টোটো দাড়িয়ে পড়ছে। সারাদিনে দু’শো টাকারও লাভ থাকছে না। নিজেরা কী রাখব, বাস মালিককে কী দেব? এদিন বারাবনি থানার পুলিশ এসে বাস চালানোর অনুরোধ করলেও সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দেন বাস চালকরা।
আসানসোল মিনি বাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রায় বলেন, আমাদের এখানে সাড়ে তিনশো মিনিবাস রয়েছে। সবারই একই অবস্থা। সরকারের মনোভাব থেকে স্পষ্ট অবৈধ অটো চলাচলের উপর কড়া অবস্থান। আমরা চাইব পশ্চিম বর্ধমানে সরকারি নির্দেশ পালন হোক।
এদিকে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবারই আসানসোল পুর কর্তৃপক্ষ, আরটিও অফিসের আধিকারিক ও পুলিশ আধিকারিকরা মিলে বৈঠক করেছেন। তারপরই সিদ্ধান্ত হয়েছে শনিবার থেকে একযোগে অভিযান হবে। -নিজস্ব চিত্র