Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিক্ষার আলো পাচ্ছে বহু দুঃস্থ ছাত্রী, পাশে দাঁড়ালেন একটি সরকারি রুটের বাসযাত্রীরা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বাসিন্দা অশ্মি মণ্ডলকে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল আর্থিক অনটনের কারণে। সংসারের জন্য টাকাপয়সা রোজগারের চাপ নেমে এসেছিল ছিল শৈশবেই।

শিক্ষার আলো পাচ্ছে বহু দুঃস্থ ছাত্রী, পাশে দাঁড়ালেন একটি সরকারি রুটের বাসযাত্রীরা
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বাসিন্দা অশ্মি মণ্ডলকে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল আর্থিক অনটনের কারণে। সংসারের জন্য টাকাপয়সা রোজগারের চাপ নেমে এসেছিল ছিল শৈশবেই। কাজের সন্ধান চলাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয় এক ব্যক্তির। সেই মানুষটি অশ্মিকে ভর্তি করে দেন বেহালার অক্সিটাউনের শিবরামপুরে ভগিনী নিবেদিতা ভবনে। সেখানে হোস্টেলে থাকে অশ্মি। নিখরচায় পড়াশোনা করে। তার মতো জয়নগরের আরও ৭২টি ছাত্রীকে নিয়ে চলছে হোস্টেল ও স্কুল। শিশুশ্রম নয় শিক্ষায় আলোকপ্রাপ্ত হচ্ছে তারা। সাধারণ মানুষের সাহায্যেই গড়ে উঠেছে স্কুল-হোস্টেলের পরিকাঠামোর একটি বড় অংশ। সেই হোস্টেলের পাশে দাঁড়ালেন একটি বাস রুটের নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের সাহচর্যে হইহই করে একটি দিন কাটালাও ছাত্রীরা। সরশুনা শকুন্তলা পার্ক থেকে কলকাতা স্টেশন পর্যন্ত চলে সরকারি বাস এস-৪৫। এই রুটে নির্দিষ্ট সময়ের নিত্যযাত্রীদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। সেই বন্ধুত্ব বা সম্পর্ককে একটু আলাদাভাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন যাত্রীরা। তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করেন ‘ইউনাইটেড এস-৪৫ প্যাসেঞ্জার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চারশোরও বেশি যাত্রী এই সংগঠনে একযোগে নানাবিদ কাজ করছেন। কয়েকজন প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করেন সংগঠনের তহবিলে। বাকিরা যখন যেমন পারেন আর্থিক সহায়তা করেন। সেই টাকায় গঠনমূলক ও সামাজিক উন্নয়নের কাজ করেন তাঁরা। পাশাপাশি বাসচালক ও কর্মীদেরও সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ান। 

Advertisement

সংগঠনের সদস্যরা সম্প্রতি ওই হোস্টেলে গিয়ে সময় কাটালেন ছাত্রীদের সঙ্গে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও উপহার তুলে দিলেন। পড়াশোনার জিনিসপত্রও দিলেন কিনে। আর একসঙ্গে বসে এলাহি খাওয়াদাওয়া করলেন। খেলাধুলো ও সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি আঁকা প্রতিযোগিতাও হয়েছে সেখানে। সংগঠনের অনেকের কথায়, ‘এই কাজ করতে ভালো লাগে।’ এই হোস্টেলের কাণ্ডারী হচ্ছেন ডিরেক্টর পার্থ রায়। তিনি বলেন, ‘রাজ্য সর্বশিক্ষা মিশন থেকে আর্থিক সাহায্য আসে তাঁদের উদ্যোগে। পাশাপাশি বহু মানুষ নিজেরাই প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ান।’ অনেকের বক্তব্য, এই পড়ুয়ারা যদি এখানে পড়াশোনার বা থাকার সুযোগ না পেত তাহলে অনেকের কৈশোরেই হয়ে যেত বিয়ে। কেউ গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হতো। কেউ পাচারও হয়ে যেতে পারত। ‘সেরকম সম্ভাবনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি হোস্টেল ও স্কুল থাকার কারণে’-মনে করেন পার্থবাবু। সেই অন্ধকার জায়গা এড়িয়ে শিশুরা শিক্ষার আলো পাচ্ছে, এটা বড় বিষয় বলে মনে করেন অনেকে। ২০১৬ সাল থেকে চলা এই প্রতিষ্ঠান থেকে ইতিমধ্যেই মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বহু ছাত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ