নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাসের জানলা দিয়ে বাইরে হাত ঝুলিয়ে রেখেছিলেন যুবক। বাসের সঙ্গে লরির ধাক্কায় সেই হাত কেটে পড়ল রাস্তায়! মঙ্গলবার সকালে বহরমপুরে ১২নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাধারঘাট মোড় ও রেলগেটের মাঝে একটি বেসরকারি হাসপাতালের কাছে এমন ঘটনায় পথচারীরা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। জখম বাসযাত্রীর নাম রাফসান শেখ। তাঁর বাড়ি হরিহরপাড়া থানার খিদিরপুরে। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের একটি বাসের সিটে বসে জানলা দিয়ে বাইরে হাত বের করে রেখেছিলেন ওই যাত্রী। উল্টোদিক থেকে একটি সিমেন্টবোঝাই লরি বেপরোয়া গতিতে এসে বাসে ধাক্কা মারে। এতে রাফসান শেখের হাত কেটে রাস্তায় পড়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্থ বাস ও ট্রাক আটক করেছে।
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সেখানে পৌঁছয়। ওই বাসযাত্রীকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর আঘাত খুবই গুরুতর। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি দু’টি আমরা আটক করেছি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লরিটি প্রচণ্ড জোরে এসে বাসের মাঝ বরাবর ধাক্কা মারে। রাফসান শেখ বাসের জানলা দিয়ে বাইরে হাত ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। সংঘর্ষের জেরে তাঁর হাত কেটে রাস্তায় পড়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হাত সহ তাঁকে তড়িঘড়ি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লরির চালক ঘুমিয়ে যাওয়ার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি। এসবিএসটিসি’র এই বাসটিতে কোনও ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল না। দিনের পর দিন ফিটনেসহীন বাসগুলি ঝুঁকি নিয়েই যাত্রী পরিবহণ করছে। এদিন ধাক্কা লাগার পর বাসটি থেমে যায়। পুলিশ যাত্রীদের নামিয়ে অন্য গাড়িতে গন্তব্যে পাঠায়। তারপর বাসটি আটক করা হয়। এসবিএসটিসি’র বহরমপুর ডিপোর টি আই ভবেশ মণ্ডল বলেন, দুর্ঘটনার পর যাত্রীরা নেমে ওই ট্রাক চালককে ধরে ফেলেন। সে নাকি ঘুমিয়ে পড়েছিল। আমাদের ডিপো থেকে প্রায় ২৫টি বাস চলে। এই বাসটির ফিটনেস ছিল কিনা-সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। সকালের এই দুর্ঘটনায় আমাদের কোনও দোষ নেই। লরিচালক ঘুমিয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।