নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সোমবার বালির নিবেদিতা সেতুতে বাস দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন পাঁচ যাত্রী। আসানসোল-কলকাতা রুটের একটি বিলাসবহুল যাত্রীবোঝাই এসি বাস এদিন দুপুরে কলকাতার দিকে যাওয়ার সময় নিবেদিতা সেতুতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে গিয়ে ধাক্কা মারে। ঘটনার অভিঘাতে এক বৃদ্ধা যাত্রী বাসের কাচ ভেঙে সেতুর উপরে ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যায় বালি থানা ও বালি ট্রাফিক গার্ডের পুলিস। তড়িঘড়ি আহত যাত্রীদের পানিহাটির সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও এদিন সন্ধ্যার পর সবাইকেই ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসানসোল থেকে নিউটাউনের দিকে যাচ্ছিল বেসরকারি সংস্থার ওই এসি বাসটি। বাসের সব আসন ভর্তি ছিল। দুপুর ১টা নাগাদ নিবেদিতা সেতুর টোল প্লাজা পেরনোর পর বাসের গতি বাড়িয়ে দেন চালক। রেল আন্ডারপাস পার করার পর সেতুমুখী লেনটি অনেকটাই বাঁক নিয়েছে। বৃষ্টিভেজা রাস্তায় বাসটি দ্রুতগতিতে থাকায় বাঁকের মুখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। বাসটি প্রথমে আচমকা সেতুর বাঁ দিকের রেলিংয়ে ধাক্কা মারে। সেই অবস্থায় চালক প্রাণপণে ডানদিকে স্টিয়ারিং কাটানোর চেষ্টা করলে ব্রিজের মাঝ বরাবর ডিভাইডারে এসে ধাক্কা মারে বাসটি। দুর্ঘটনার অভিঘাতে ভেঙে যায় বাসের সামনের ও ডানদিকের প্রথম যাত্রী আসনের কাচ। ওই কাচ ভেঙে সেতুর উপরে ছিটকে পড়েন ইতিকা কর্মকার নামের এক বৃদ্ধা। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও জখম হন বাসচালক নীলাদ্রি রায়, সহকারী চালক অনাথ নাথ, কন্ডাক্টর প্রবীর ঘোষ ও মনোজ ঘোষ নামের এক যাত্রী। পুলিস দু’টি অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর মনোজ ঘোষকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি চারজনের মধ্যে সহকারী চালকের পা ভেঙেছে। সেতুতে পড়ে যাওয়ায় দাঁত ভেঙেছে বৃদ্ধার। হাসপাতাল সূত্রে খবর এ খবর জানা গিয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় আধঘণ্টা দেরিতে চলছিল বাসটি। টোল প্লাজা পার করার পর রাস্তা ফাঁকা পাওয়ায় বাসের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন চালক। সেতুমুখী লেনের বাঁকে এসে আর নিয়ন্ত্রণ সামলাতে পারেননি। সেকারণেই এই দুর্ঘটনা। তবে প্রথমে বাঁদিকের রেলিংয়ে ধাক্কা মারার পর সেটি যে গঙ্গায় উল্টে যায়নি, এটাই অনেক। তাহলে বহু মানুষের হতাহতের আশঙ্কা থাকত। পুলিস দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের অন্যান্য যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করে। বাসটিকেও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে প্রায় ৪০ মিনিট নিবেদিতা সেতুতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের যাত্রীদের কথায়, ‘বাসটি গঙ্গায় পড়ে যেতে পারত, উল্টেও যেতে পারত। চালকের দক্ষতার কারণেই তা হয়নি। বরাত ভালো, বেঁচে গিয়েছি।’ নিজস্ব চিত্র