সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ক্যানসার ইমিউনো থেরাপির কার্যকারিতা বৃদ্ধির টোটকা আবিষ্কার করে গোটা বিশ্বের নজর কাড়লেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ সুমিতকুমার হীরা। ডেনড্রাইটিক সেলের মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধের দিশা দেখিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেলেন। ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহার করে ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম কিভাবে তৈরি হয়, সেটাই ছিল সুমিতবাবুর মূল গবেষণা। সেই কাজে তিনি সফল। সম্প্রতি, আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে সম্মানিত করা হয় সুমিতবাবুকে। টিউমার মাইক্রো এনভায়রনমেন্ট নিয়েও তিনি গবেষণায় দিশা দেখিয়েছেন।
সুমিতবাবু সোমবার বলেছেন, ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বিভিন্ন বয়সের লোকজন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ক্যান্সার আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ইউমিউনোথেরাপি কাজ করে না। কিন্তু, কেন করে না? এই প্রশ্নকে সামনে রেখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে কীভাবে সুস্থ করে তোলা যায়, তা নিয়েই গবেষণা করা হয়েছে। এখন কোলন ক্যান্সারের সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে। খাদ্যাভাস পাল্টে যাওয়াই বৃদ্ধির মূল কারণ। অনেকেই ফাস্টফুডের উপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ আবার প্রচুর পরিমাণে মাংস খান। তাঁদের ক্ষেত্রেই কোলন ক্যান্সার বেশি। ২০০৮ সাল থেকে কোলন ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা চলছে। এর আগে আমরা ব্লাড ক্যান্সার নিয়ে কাজ করেছি।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেই কারণে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসার বিশেষ ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ আনা হয়েছে। দু’টি ইউনিট চালুর পথে। এক আধিকারিক বলেন, অনেকে প্রথম দিকে কিছু টের পাচ্ছেন না। কয়েক দিন আগে পেটে ব্যাথা নিয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগী এসেছিলেন। বহু দিন ধরেই তাঁর পেটে যন্ত্রণা হচ্ছিল। ব্যাথার ওষুধ খেয়েই স্বস্তি পেতেন। পরে সমস্যা বাড়তে থাকলে তিনি হাসপাতালে আসেন। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। আধিকারিকদের অনেকেই বলছেন, এধরণের রোগ নিয়ে আরও বেশি করে গবেষণা করা দরকার। সেটা হলে অনেকের প্রাণ বাঁচানো যাবে।
সুমিতবাবু বলছেন, ডেনড্রাইটিক সেল ভিত্তিক থেরাপি নিয়ে কাজ করে বিশেষ সাফল্য মিলেছে। টিউমার বিরোধী টি-কোষ সক্রিয়করণে এই থেরাপি যথেষ্ট কার্যকর হয়েছে। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের টি-কোষের কার্যকারিতা কমে যায়। গবেষণায় ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন মলিকিউলার চিহ্নিত করা হয়েছে। কোলন ক্যান্সার নিয়েই গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবছর ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নমিনেশনের মাধ্যমে ফেলো ঠিক করে। বাংলায় ৩৬ জন জন নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারমধ্যে আমাকে পুরষ্কৃত করা হয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।