সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান বিশবিদ্যালয়ের প্রায় দু’কোটি টাকা তছরুপের মামলায় ধৃত তৎকালীন সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভক্ত মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে সিট। বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কে তার অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তার খণ্ডঘোষ থানার মাসিলা গ্রামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের পাসবই ও চেকবই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে সিটের দাবি। অর্থ আত্মসাতে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার কথা সিটের কাছে ভক্ত জানিয়েছে। তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সিট। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সিট হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভক্তকে সোমবার ফের বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তে অগ্রগতি এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্র উন্মোচন করার জন্য ধৃতকে আবারও হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতে জানান তদন্তকারী অফিসার। ধৃতের তিনদিন হেফাজত মঞ্জুর করেন সিজেএম বিনোদ মাহাত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের মামলায় গুজরাতের কচ্ছ থেকে ভক্তকে গ্রেপ্তার করে সিট। সেখানকার আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে বর্ধমানে আনা হয়। তাকে ১০ দিন সিট হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় সিজেএম আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা ভক্ত স্বীকার করেছে বলে দাবি সিটের।
সূত্রের খবর, বিজেপির হয়ে নির্বাচনে টিকিট পাওয়ার জন্য মোটা টাকা ঢেলেছিল ভক্ত। বেশকিছু জায়গায় তার দেনা হয়। পাওনাদাররা তাকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এরপরই সে টাকা জোগাড় করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা হাতানোর পরিকল্পনা করে। দীর্ঘদিন ধরে ফিনান্স বিভাগে কাজ করার সুবাদে দপ্তরের হাল-হকিকত তার সম্পূর্ণ জানা ছিল। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের আমানত প্রকল্পের টাকার শংসাপত্র তার কাছেই থাকত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের সই নকল করে টাকা তোলার পরিকল্পনা করে সে। সেইমতো শহরের দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার জন্য সে চিঠি দেয়। তারমধ্যে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা থেকে প্রায় দু’কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়।