সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান জেলা ক্রীড়া সংস্থায় চূড়ান্ত ডামাডোল চলছে। সামনেই ক্রিকেট মরশুম। কিন্তু, সভা ডেকে এখনও দল বদল এবং খেলোয়াড়দের নথিভুক্তকরণের সূচি ঘোষণা করতে পারেনি ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট সাব কমিটি। বেশিরভাগ সদস্য হাজির না হওয়ায় সাব কমিটির দু’টি সভা ভেস্তে গিয়েছে। আবার ফুটবল নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কল্যাণ স্মৃতি সঙ্ঘ বনাম আরএইউসির খেলা মাঝপথে ভেস্তে যায়। মাঠ থেকে টিম তুলে নেয় কল্যাণ স্মৃতি সঙ্ঘ। সেই সময় তারা ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। ম্যাচ চলাকালীন ও পরে রেফারিকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। এনিয়ে ক্রীড়া সংস্থায় রেফারির রিপোর্ট জমা পড়েছে। ম্যাচের দুই অবজার্ভারের রিপোর্টও জমা পড়েছে। এসবের মধ্যেই কল্যাণ স্মৃতি সঙ্ঘের ম্যাচ খেলানো নিয়ে বেঁকে বসেছেন রেফারিরা। বেশিরভাগ রেফারি কল্যাণ স্মৃতি সঙ্ঘের ম্যাচ খেলাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আবার কল্যাণ স্মৃতি সঙ্ঘ চিঠি দিয়ে লিগের পরবর্তী ম্যাচগুলিতে দল নামাতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গী হয়েছে শিবাজি সঙ্ঘ। ক্লাবের তরফে চিঠি দিয়ে খেলোয়াড় না পাওয়ার কথা জানিয়ে দল নামাতে সমস্যার কথা বলা হয়েছে। দু’টি দল পরের ম্যাচগুলিতে অংশ না নেওয়ার কথা জানানোয় লিগ অনেকটাই আকর্ষণহীনহয়ে পড়ল। কয়েকবছর ধরেই অবশ্য এই ট্র্যাডিশন চলছে। সব ক’টি ডিভিশনেই লিগের মাঝপথ থেকে দল তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। যদিও ক্রীড়া সংস্থা এ ব্যাপারে কড়া হতে না পারায় এবং দুর্বল আইন হওয়ায় তা কাজে লাগিয়ে ক্লাবগুলি লিগের মাঝপথ থেকে দল তুলে নিচ্ছে। ক্রীড়া সংস্থার সচিব পীরদাস মণ্ডল বলেন, ক্রিকেট সাব কমিটির সভা আবার ডাকা হবে। ফুটবল নিয়েও সাব কমিটির সভা ডেকে আইন মাফিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যান্যবার সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ক্রিকেটের দলবদল শুরু হয়ে যায়। কিন্তু, এবার সেটা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, এখনও পর্যন্ত ক্রিকেট সাব কমিটি সভা ডেকে দলবদল ও খেলোয়াড়দের নথিভুক্তকরণের সূচি ঘোষণা করতে পারেনি। দু’বার এনিয়ে সাব কমিটির সভা ডাকা হয়। কিন্তু, অধিকাংশ সদস্য সভায় হাজির না থাকায় তা ভেস্তে যায়। ক্রিকেট সেক্রেটারি শিবশঙ্কর ঘোষ বলেন, দু’বার সভা ডাকা হয়েছিল। আবার সভা ডেকে দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মাঠ বেহাল হয়ে পড়ার কারণে ৪৮ দিন রাধারানি স্টেডিয়ামে খেলা বন্ধ ছিল। সেই কারণে সুপার ডিভিশন ও প্রথম ডিভিশনের খেলা পিছিয়ে যায়। প্রথম ডিভিশনের খেলা স্পন্দন স্টেডিয়ামে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। হাল ফিরিয়ে রাধারানি স্টেডিয়ামের মাঠে শুরু হয় সুপার ডিভিশন লিগ। কিন্তু, কয়েকটি ম্যাচ গড়ানোর পরই তাল কাটে কল্যাণ স্মৃতি সঙ্ঘ ও আরএইউসির খেলা ভেস্তে যায়, মাঠে গণ্ডগোল হয়। দল তুলে নেওয়ায় কল্যাণ স্মৃতি সঙ্ঘের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরের ম্যাচের তাদের পুরো তিন পয়েন্ট পুলিস অ্যাথলেটিক ক্লাবকে দিয়ে দেওয়া হয়। মাঠে গণ্ডগোল নিয়ে রেফারি ও পর্যবেক্ষকরা রিপোর্ট দেন। কিন্তু, সাব কমিটির সভা না হওয়ায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। তার উপর গোদের উপর বিষ ফোড়ার মতো দু’টি নামী দল টিম তুলে নেওয়ায় লিগের জৌলুস অনেকটাই কমল।