সংবাদদাতা, দিনহাটা: মাতালহাটে শুরু হল জয়েস ব্রিজ তৈরির কাজ। শনিবার বুড়া ধরলা নদীর উপর সাহাজের ঘাটে এই সেতুর কাজের উদ্বোধন হয়। দীর্ঘ ৪০ বছরের আন্দোলনের পর অবশেষে সেতুর কাজ শুরু হল। এই সেতু তৈরি হলে নদীর ওপারে অবস্থিত পাখিহাগা, বাজেজমা সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারাদের দীর্ঘ চার দশকের সমস্যা মিটবে। তবে সাধারণ মানুষ চাইছেন, এই কাজ দ্রুত শেষ হোক। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দু’কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতু হবে।
১৯৮৮ সালের তাপসী দাস নামে এক স্কুল ছাত্রী বুড়া ধরলা নদী পারাপারের সময় নৌকাডুবিতে প্রাণ হারায়। সাহাজের ঘাট দিয়ে মাতালহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত সে। নৌকাডুবিতে ছাত্রীর মৃত্যু নাড়া দেয় সাধারণ মানুষকে। বুড়া ধরলায় সেতুর দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। সেতু না হওয়ায় বর্ষায় ১০ কিমি পথ ঘুরে দিনহাটা যাতায়াত করতে হয় ওপারের বাসিন্দাদের। নদীর জল কমলে সাঁকো তৈরি করে দেয় গ্রাম পঞ্চায়েত। বছরে অন্তত দু’বার সাঁকো বানাতে হয়। বর্ষায় জলস্তর বেড়ে গেলে নৌকায় যাতায়াত করেন অনেকে।
এই নদীতে সেতু তৈরি করা যে ভীষণ প্রয়োজন তা গত প্রায় চার দশক থেকে বলে আসছেন গ্রামবাসী। শেষমেশ সাধারণ মানুষের কথা ভেবে ২০১৯ সালে সেতু বানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু, করোনাপর্বের জন্য তা পিছিয়ে যায়। ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ফের সেতু বানানোর প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূল প্রার্থী জগদীশ বসুনীয়া। সেই প্রতিশ্রুতি মতো উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে এদিন সেতুর কাজ শুরু হল।
অনুষ্ঠানে এসে মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মানবেন্দ্র রায় বলেন, ৪০ বছর ধরে সেতুর দাবিতে সাহাজের ঘাটে আন্দোলন হচ্ছে। এদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বরাদ্দে সেই কাজ শুরু হল। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া বলেন, ২০১৯ সালে সেতুর পরিকল্পনা করা হয়। করোনার জন্য কাজ কিছুটা পিছিয়ে যায়। এই সেতু তৈরি হলে কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, ২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সেতুটি তৈরি করা হচ্ছে।