Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেউর জেলে বসে বর্ধমানে ব্যাঙ্ক ডাকাতির পরিকল্পনা করে পুল্লু

বেউর জেলে বসে বর্ধমানে ব্যাঙ্ক ডাকাতির পরিকল্পনা করে পুল্লু
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের কার্জন গেট লাগোয়া বৈদ্যনাথ কাটরায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে ডাকাতির ঘটনায় বিহারের কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজীব কুমার সিং ওরফে পুল্লুকে বেউর জেল থেকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হল। তাকে আদালতে পেশ করার জন্য বেশ কয়েকবার সিজেএম আদালত থেকে বেউর জেল কর্তৃপক্ষকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়। কিন্তু, নানা অছিলায় এতদিন তাকে সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার তাকে কড়া নিরাপত্তায় বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। বিহারের সমস্তিপুর জেলার ওয়ারিশনগর থানার শেখোপুর গ্রামে তার বাড়ি। ব্যাঙ্ক ডাকাতির কিনারায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে তাকে ১৪দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে এদিন আদালতে আবেদন জানায় সিআইডি। তাকে ছ’দিন সিআইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। 
Advertisement
সিআইডি ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন ৯টা ৪৪ নাগাদ ব্যাঙ্কের তিনজন কর্মী গেটের তালা খুলে ভিতরে ঢোকেন। মিনিট খানেকের মধ্যেই চার দুষ্কৃতী ব্যাঙ্কে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে কর্মীদের একটি জায়গায় আটকে রাখে। তারপর লকার খুলে ভল্ট থেকে ডাকাতরা ৩২ লক্ষ ৮৯ হাজার ১০০ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। শুধু টাকা নয়, ডাকাত দলটি রাউটার, মোডেম, সিসি টিভির সুইচ ও ব্যাঙ্কের এক কর্মীর মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দেয়। ১০টা ৩৮ নাগাদ ডাকাতরা ব্যাঙ্ক ছাড়ে। ঘটনার দিনই ব্যাঙ্কের চিফ ম্যানেজার কুন্দন কিশোর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘদিন তদন্ত করেও ডাকাতির কিনারা করতে ব্যর্থ হয় পুলিস। কিনারা করতে না পেরে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় পুলিসের তরফে। তার কিছুদিন পরই কেস রি-ওপেন করার জন্য আবেদন জানানো হয় পুলিসের তরফে। তা মঞ্জুর হয়। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সূত্রে তদন্তে নেমে সিআইডি ব্যাঙ্ক ডাকাতিতে রাজীবের জড়িত থাকার কথা জানতে পারে। বেউর জেলে বসেই পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে ডাকাতির বিষয়ে সে পরিকল্পনা সাজায় বলে সিআইডির দাবি। ২০১৮ সালের রাজীবনগর থানার একটি মামলায় জেলে রয়েছে রাজীব। সেখানে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডির গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য মেলে বলে সিআইডি দাবি করেছে। পরে ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগে ধরমকুমার সিং ওরফে রজনীশকে সিআইডি হেফাজতে নেয়। বিহারের বৈশালি জেলার রাঘবপুর-ফতেপুর থানার রাঘবপুরে তার বাড়ি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনায় পুল্লুর জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারে সিআইডি। তবে, বেউর জেল থেকে তাকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করাতে কালঘাম ছুটে যায় সিআইডির। বারবার সিআইডির তরফে তাকে আদালতে পেশ করা জন্য আবেদন জানানো হয়। চারবার তাকে আদালতে পেশ করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এদিন আদালতে পেশ করার পর তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন জানায় সিআইডি। পরে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। ধৃতের আইনজীবী পার্থ হাটি বলেন, ঘটনার সময় রাজীব জেলে ছিল। সিআইডি দাবি করছে, জেলে বসে সে ডাকাতির পরিকল্পনায় করেছে। তবে, এ সংক্রান্ত তেমন কোনও তথ্য সিআইডি আদালতে দিতে পারেনি। এর আগে ধরমকে হেফাজতে নিয়েও সিআইডি তদন্তে তেমন কিছু অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
সম্পর্কিত সংবাদ