সংবাদদাতা, বহরমপুর: স্ত্রীর বান্ধবী টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করে হুমকি দিয়েছিল। এই নিয়ে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। তার জেরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক ব্যক্তি। মৃতের নাম সত্যেন মণ্ডল (৪৩)। বাড়ি বহরমপুর থানার রাধারঘাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাজারপাড়া। বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন সত্যেনবাবু। বৃহস্পতিবার সকালে মধুপুর এলাকায় এক ক্যুরিয়ার সার্ভিসের অফিস থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে বহরমপুর থানার পুলিস। ওই অফিসে ম্যানেজার পদে কাজ করতেন সত্যেনবাবু। ঘটনার পর থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বহরমপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বহরমপুর গোরাবাজার এলাকায় শ্বশুরবাড়ি সত্যেনবাবুর। ওই পাড়ায় স্ত্রীর বান্ধবী স্বামীর কিডনির চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন সত্যেনবাবুর কাছে। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও বারবার চাওয়া সত্ত্বেও টাকা পরিশোধ করছিলেন না। ভাইফোঁটার দিন সত্যেনবাবুর বছর সাতেকের একমাত্র ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার জন্য টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। সত্যেনবাবুর স্ত্রী স্বপ্না মণ্ডল বহরমপুর থানায় পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, ধার দেওয়া ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে তাঁর স্বামীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাতেই অবসাদে ভুগছিলেন তাঁর স্বামী। এদিকে সত্যেনবাবু বাজারপাড়ায় যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সেখানেও প্রায় চার মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া রয়েছে। এই নিয়ে পরিবারে অশান্তিও চলছিল। বুধবার অফিসে এসে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। বারবার ফোন করেও সুইচড অফ থাকায় যোগাযোগ হয়নি। পরিবারের লোকজন রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। সন্দেহ হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা নাগাদ ক্যুরিয়ার সার্ভিসের অফিস খুলে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের দাদা স্বরূপ মণ্ডল বলেন, অফিসের এক মহিলাকর্মী তিনদিন আগে দড়ি কিনে আনতে দেখেন। অফিসেই সে দড়ি রাখা ছিল। তার মানে ভাই তিনদিন আগেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ধার দেওয়া টাকা ফেরত আনতে না পারায় পারিবারিক অশান্তির জেরেই আত্মহত্যা বলে অনুমান স্বরূপবাবুর।



