সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: থরে থরে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। রাখা রয়েছে টেবিলের উপর। খবরের কাগজে মোড়া ওই টাকার সামনেই চেয়ারে বসে রয়েছেন কুড়মি নেতা অজিত মাহাত। খবরের কাগজে মোড়া ওই টাকা দেখানোর পরই একজন তা ভিতরে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। ৩৫ সেকেন্ডের এমনই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। তৃণমূল আগেই অজিতবাবুর সঙ্গে অমিত শাহের ‘ডিলে’র কথা বলেছিল। এই ভিডিও সামনে আসার পর পুরুলিয়া তথা জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই ভাইরাল ভিডিয়োতে তাঁর সামনে থাকা টাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিতে পারেননি অজিতবাবু। তিনি তৃণমূলের চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন।
উল্লেখ্য, আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত মাহাতর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাত এবার জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী। কুড়মি আন্দোলনের নেতার ছেলে বিজেপি প্রার্থী হওয়ায় কম বিতর্ক হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঝালদায় এসে অজিতবাবুর সঙ্গে বিজেপির অমিত শাহের ‘ডিল’ হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তারপর সদ্য বাঘমুণ্ডিতে সভা করে গিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভার পরই অজিতবাবুর ভিডিয়ো ভাইরালের বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জয়পুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অর্জুন মাহাত বলেন, এক সময় ধান চাল বিক্রি করে গ্রামের মানুষজন কুড়মি সমাজের আন্দোলন করেছেন। সেই কুড়মি সমাজকে ভাগ করার জন্যই অজিতবাবু টাকার বিনিময়ে সমাজকে বিজেপির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তৃণমূল অনেক আগে থেকেই এবিষয়ে অভিযোগ করছিল। ওই ভিডিয়োর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজের চোখেই দেখতে পারছেন। বান্ডিল বান্ডিল ৫০০ টাকার নোট অজিতবাবুর সামনে রয়েছে। পেপারে মুড়ে সেই টাকা ভিতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অজিতবাবুর মুখোশ সবার সামনে খুলে গিয়েছে।
এবিষয়ে অজিতবাবু বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস তো আগে থেকেই অমিত শাহের সঙ্গে আমার ডিলের কথা বলেছিল। সেটা প্রমাণ করতেই এমন ভিডিও ছড়িয়েছে।’ ওই ভিডিয়োর সত্যতার বিষয়ে তেমন কোনো জোরালো প্রশ্ন তোলেননি অজিতবাবু। তিনি চক্রান্তের কথা বললেও পরক্ষণেই নিজের মত পাল্টে বলেন, ‘চাঁদা তো সবাই নেয়। চাঁদা যে কেউ নিতেই পারে।’ তিনি এও বলেন, ‘অজিত মাহাত সমাজের ৯০ লক্ষ টাকার কর্মসূচি করেছে। দিল্লি যাওয়া হয়েছিল একসময়। তাছাড়া হুলহুলির টাঁড়েও কত লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল সমাজের কর্মসূচিতে তার কোনো হিসাব নেই। সাধারণ মানুষ নিজেরাই কর্মসূচিগুলিতে খরচ করে। কর্মসূচির জন্য টাকা এনেও দেয়। ওই ভিডিও কখনকার কিসের ভিডিয়ো, তা বুঝতে পারছি না।’