বেকেনহ্যাম: ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখার পর রবিবারই ছিল টিম ইন্ডিয়ার প্রথম অনুশীলন। লর্ডসের সবুজ গালিচায় ওয়ার্ম আপের পর ক্রিকেটাররা দীর্ঘ সময় নেটে সময় কাটান। বুধবার লর্ডসে শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল। তাই ভারতীয় দলের জন্য নির্ধারিত হয়েছে নতুন প্র্যাকটিস ভেন্যু বেকেনহ্যাম। লন্ডনের কেন্দ্রস্থল থেকে গাড়িতে ঘণ্টাখানেকের পথ। সোমবার এখানেই প্র্যাকটিসে বুমরাহর বলে নকিং করতে দেখা গেল গিলকে। গতির সঙ্গে সুইংয়ে ক্যাপ্টেনকে যথেষ্ট বেগ দেন বুমবুম। ক্রিকেটাররা ছিলেন বেশ চনমনে। সবকিছুই যখন ঠিক চলছিল, তখন ঘটে বিপত্তি। একটা বল লাফিয়ে ঋষভ পন্থের হাতে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় মেডিক্যাল টিম। চোটের জায়গায় বেঁধে দেওয়া হয় বরফের প্যাক। নেট থেকে বেরিয়ে যান ঋষভ। তা দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, তাহলে কি চোট খুবই গুরুতর? প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন তো? তবে টিম বাসে ওঠার আগে হাত নাড়তে দেখা যায় ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ককে। তিনি যেন সমর্থকদের আশ্বস্ত করলেন।
বেকেনহ্যামে ভারতীয় দল নিজেদের মধ্যে একটা প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে। তা থেকেই হয়তো কোচ গম্ভীর বেছে নেবেন, প্রথম একাদশ। তারপর গিল বাহিনী পৌঁছবে লিডসে। সেখানেই ২০ জুন শুরু ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট। এবারের ইংল্যান্ড সফর বিভিন্ন কারণে ভারতীয় দলের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। বিরাট-রোহিতের অবসরে লাল বলের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে গিলের নেতৃত্বে। তরুণ তুর্কির হাতে গুরুদায়িত্ব সঁপে দেওয়ার পিছনে রয়েছে বোর্ডের নতুন অঙ্ক। কোচ গৌতম গম্ভীরও সেটাই চাইছিলেন। আসলে কোহলি, রোহিতদের উপস্থিতিতে দলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তিনি নিজের হাতে পাচ্ছিলেন না। অনভিজ্ঞ গিলকে সিংহাসনে বসিয়ে নেপথ্যে ছড়ি ঘোরাবেন গুরু গম্ভীরই। তবে সেটা বুমেরাং হলে কিন্তু সমস্যা বাড়বে। তাই ইংল্যান্ড সফর গিলের সঙ্গে পরীক্ষা কোচ গম্ভীরেরও।
ভারত দু’বার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলেছে। প্রত্যেকবারই ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। এবার তো রোহিতের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ হেরে ফাইনালের টিকিটও অর্জন করতে ব্যর্থ হয় টিম ইন্ডিয়া। তাই ‘বুড়ো’ ঘোড়াদের উপর বাজি রাখতে চায়নি বিসিসিআই। প্রাপ্তি যখন হতাশাই, তখন তারুণ্যের জোয়ারে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের মুখ দেখতে চাইছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে শেষ পর্যন্ত জল কতদূর গড়াবে, তার উত্তর সময় দেবে।
এদিকে, ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে ভারতীয় এ দলের ম্যাচ ড্র হল। বড় রান পেলেন ক্যাপ্টেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ (৮০), লোকেশ রাহুল (৫১)। বিশেষ করে প্রশংসা করতেই হবে তানুশ কোটিয়ানের। আট নম্বরে নেমে ৯০ রানে অপরাজিত তিনি। সঙ্গী অংশুল কম্বোজও হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নট-আউট থাকেন ৫১ রানে। শেষপর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ৪১৭ রান তোলার পর ডিক্লেয়ার দেয় ভারতীয় এ দল। জবাবে ম্যাচের শেষ দু’ঘণ্টায় ইংল্যান্ড লায়ন্স ৩ উইকেটে ৩২ রান সংগ্রহ করে।