নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই উচ্ছেদ অভিযানের গতি বাড়ল পশ্চিম বর্ধমানে। বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার-দাওয়াই শুরু করেছে রেল ও সেইল। মঙ্গলবার রেল কর্তৃপক্ষ দু’টি বুলডোজার নিয়ে হাজির হয় কুলটি থানার বলতোড়িয়া গণেশ মেলা মাঠের কাছে। এলাকাটির মালিক রেল। সেই জমি দখল করে কয়েকশো পরিবার বাস করছে দীর্ঘদিন ধরে। রেল এই এলাকা দিয়ে ফ্রেড করিডর নির্মাণ করতে চাইছে। তাই আগেও উচ্ছেদের চেষ্টা হয়েছিল। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার ফলে উচ্ছেদ অভিযান সফল হয়নি। সরকার বদলের পর পরই উচ্ছেদ তৎপর রেল।
সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে রেলের তরফে নোটিস দিয়ে এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ করা হয়। ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই বুলডোজার নিয়ে হাজির রেলের আধিকারিকরা। শুরু হয়ে যায় ঝুপড়ি, রেলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভাঙার কাজ। গৃহস্থলীর জিনিসপত্র গোছানোরও সময় পাননি কেউই। কান্নার রোল ওঠে গরিব পরিবারগুলিতে। সাগর তাঁতি, রাজেশ বিন্দ, লাড্ডু হাড়িরা বলেন, আমাদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হোক। না হলে গাছতলায় আশ্রয় নিতে হবে। পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ান কুলটির পরাজিত কংগ্রেস প্রার্থী রবি যাদব। তিনিও রেল প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন পরিবারগুলিকে সময় দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, এই এলাকাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সভা করে বিজেপির হয়ে ভোট চেয়েছিলেন। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে মানুষ একচেটিয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। এখন বিপদের দিনে বিজেপি, তৃণমূল কেউই পাশে নেই।
কুলটির বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার বলেন, ফ্রেড করিডর নির্মাণ হলে বাংলার সামগ্রিক বিকাশ হবে। পরিবারগুলিকে জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েকটা দিন সময় দিতে রেলকে অনুরোধ করেছি। তাঁরা আমার অনুরোধ রেখেছেন। তৎপর্যপূর্ণভাবে এতবড় ঘটনাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো আন্দোলন নজরে আসেনি।
অন্যদিকে, ইস্কো এদিন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যালয়েই বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। বার্নপুর শহরের এবি টাইপ কোয়ার্টার এলাকায় এই অভিযান চলে। আসানসোল দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল ইস্কোর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (এইচআর) ইউপি সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন। ইস্কো তৃণমূলের পার্টি অফিসগুলিতে উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে। প্রতিনিধি দল গিয়ে অনুরোধ করে, পার্টি অফিসগুলি থেকে বহু নাগরিক পরিষেবা পান। তাই উচ্ছেদ করা হলে অনেকেই অসুবিধায় পড়বেন। বার্নপুরের তৃণমূল শহর সভাপতি পূর্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, ‘বার্নপুর শহরটিই ইস্কোর জমির উপর। স্বাভাবিকভাবেই সব দলীয় কার্যালয়গুলিই ইস্কোর জমিতে গড়ে উঠেছে। সেগুলিতে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমরা তা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছি।