Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার হাবড়া স্টেশন চত্বরে বুলডোজার, এক রাতেই পথে বসল হাজার পরিবার

হাবড়া স্টেশন চত্বরে এক রাতের উচ্ছেদ অভিযানে বিধ্বস্ত হয়েছে ৫০০ দোকান। প্রায় ১০০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। বিস্তারিত পড়ুন।

এবার হাবড়া স্টেশন চত্বরে বুলডোজার, এক রাতেই পথে বসল হাজার পরিবার
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যে পালাবদল হতেই একের পর এক স্টেশনে ও রেলের জমিতে বেলাগাম উচ্ছেদ চালাচ্ছে রেল। দমদম, যাদবপুর, উত্তরপাড়ার পর সেই তালিকায় এবার নাম উঠল উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার! সোমবার রাতভর হাবড়া স্টেশন সংলগ্ন জমিতে থাকা শতাধিক দোকান, হকারের স্টল, বসবাসের ঝুপড়ি ধুলোয় মিশিয়ে দেয় বুলডোজার। মঙ্গলবার সকালে হাবড়া স্টেশন চত্বর যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদ! ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ কাঁদছেন, কেউ গেরস্থালির বেঁচে থাকা সামগ্রী খুঁজছেন তখনও। এক রাতের উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে গিয়েছে পাঁচশোর বেশি দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার পরিবার। 

Advertisement

পূর্ব রেলের শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হাবড়া। রাতে ১ নম্বর রেলগেট থেকে শুরু করে স্টেশনের তিনটি প্ল্যাটফর্মে চলে বুলডোজার। দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা দোকানপাট, হকারদের স্টল, এমনকি বিভিন্ন সংগঠনের অফিস ভেঙে দেওয়া হয়। রাত যত বেড়েছে, বুলডোজারের ধ্বংসলীলা তত গতি পেয়েছে। 
উচ্ছেদ অভিযানের শুরুর ঠিক আগে নাটকীয় ঘটনাও কম হয়নি! স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্টেশন চত্বরে তৃণমূল পরিচালিত একটি ক্লাবকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কালীমন্দিরের রূপ দেওয়া হয়েছিল। পাশেই ভেন্ডার সমিতির অফিসে বসানো হয় রাধাগোবিন্দের মূর্তি। বাইরে ‘মন্দির’ বলে লিখে দেওয়া হয়। অনেকের ধারণা ছিল, ধর্মীয় স্থাপনা দেখলে হয়তো সেখানে বুলডোজার চলবে না। কিন্তু উচ্ছেদের মুখে টেকেনি সদ্য গড়ে ওঠা ‘মন্দির’। সূত্রের খবর, রেলের জমিতে যাঁদের দোকান বা বসবাস ছিল, তাঁদের উঠে যাওয়ার জন্য ১৩ জুন ডেডলাইন দিয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরতেই শুরু হয় উচ্ছেদ। মোতায়েন করা হয়েছিল আরপিএফ, জিআরপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে সোচ্চার হয়। 
সমস্যায় পড়েছেন সংবাদপত্র বিক্রেতারাও। ছোটো জায়গায় তাঁরা অস্থায়ীভাবে বসতেন কাগজ বিক্রি করতে। মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁদেরও বসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পত্রিকা বিক্রেতা কানাই কুণ্ডু ও ইন্দ্রনাথ কুণ্ডুর কথায়, ‘আমরা তো ছোট্টো একটা জায়গায় কয়েক ঘণ্টা বসি। যাত্রীদের কোনো অসুবিধা করি না। আমাদের দিকটা কি রেল দেখবে না?’ হকার সুফল দে, রণজিৎ দত্ত বলেন, ‘বহু বছর ধরে ব্যবসা করছি। এই আয়েই সংসার চলেছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা হয়েছে। এখন সব শেষ! আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’ হাবড়া স্টেশনে হকারদের জবরদখল নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যযাত্রীদের একাংশের ক্ষোভ ছিল। অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মের বড় অংশজুড়ে দোকান থাকায় ব্যস্ত সময়ে ট্রেন ধরা বা চলাচল কঠিন হয়ে উঠেছিল। তাই উচ্ছেদের পর স্বস্তিও প্রকাশ করছেন অনেকে। সিপিএম নেতা ঋজিনন্দন বিশ্বাস বলেন, ‘রেলের উন্নয়নের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ অমানবিক। যাঁদের উপার্জনের অন্য কোনো পথ নেই, তাঁদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারকে নিতেই হবে।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ