Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যরাতে বুলডোজার, দক্ষিণেশ্বর মোড়ে ভাঙা হল ১৯৫টি দোকান

নোটিস ছাড়াই রাতের অন্ধকারে চালিয়ে দেওয়া হল বুলডোজার।

মধ্যরাতে বুলডোজার, দক্ষিণেশ্বর  মোড়ে ভাঙা হল ১৯৫টি দোকান
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নোটিস ছাড়াই রাতের অন্ধকারে চালিয়ে দেওয়া হল বুলডোজার। দক্ষিণেশ্বর মোড়ের কাছে নিবেদিতা সেতুর নীচে থাকা প্রায় ১৯৫টি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। সোমবার মধ্যরাতের অপারেশনে হাহাকার ও চোখের জলে ভাসছেন কয়েকশো মানুষ। অথচ, ওই জায়গায় ১৩টি রুটের বাস স্ট্যান্ড, ট্যাক্সি ও অটোর স্ট্যান্ড অক্ষত থেকে গিয়েছে। 

Advertisement

দক্ষিণেশ্বর মোড় থেকে বালি ব্রিজে ওঠার মুখে নিবেদিতা সেতুর ফ্লাইওভারের নীচে কয়েক দশক ধরে গড়ে উঠেছিল একের পর এক দোকান। রেলিং ঘেরা ফুটপাতের পাশে পরপর ছিল চা-পান, ঘুগনি-মুড়ি, রুটি-ভাতের হোটেল, রেস্টুরেন্ট সহ ছোটো বড়ো প্রায় ১৯৫টি দোকান। আর তার পাশের বিস্তীর্ণ জায়গায় ১৩টি রুটের বাস-ট্যাক্সি, অটোর স্ট্যান্ড। দোকানদারদের অভিযোগ, উচ্ছেদের জন্য কোনো লিখিত নোটিস দেওয়া হয়নি। শুধু মাইকে কয়েকবার প্রচার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ১৩ জুলাই সোমবারের মধ্যে সমস্ত দোকানকে উঠে যেতে হবে। সোমবার মধ্যরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী এনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক দোকান।
প্রতিবাদে নামা দুই দোকানদারকে দক্ষিণেশ্বর থানায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। এদিন সকাল থেকে সর্বস্ব হারানো দোকানদারদের চোখে ছিল জল। তারমধ্যেও ধ্বংসস্তুপের ভিতর থেকে ভাঙা দোকানের টিন ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করছিলেন সন্দীপ দাস। তিনি এক চোখে দেখতে পান না। চোখর জল মুছে বলেন, আমার চায়ের দোকান ছিল। সেখান থেকে সংসার চলত। ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। এক বছরের মেয়েও রয়েছে। কীভাবে সংসার চলবে জানি না। 
দীর্ঘদিন ধরে ভাতের হোটেল চালাতেন ছবি দাস। তিনি বলেন, বারবার বলেছিলাম তিন মাস সময় দেওয়া হোক। কালও সবার হাতে পায়ে ধরেছি। কিন্তু কেউ কথা শুনল না। সব ভেঙে দিল। চায়ের দোকানদার সমীর চক্রবর্তী বলেন, আমরা চিঠি দিয়ে সময় চেয়েছিলাম। কথা শোনা হল না। শুনছি আমাদের দোকান সরিয়ে সেখানে সৌন্দর্যায়ন হবে। আমরা না খেয়ে মরব। সরকার আমাদের পরিবারের কথা ভাবল না।  নিজস্ব চিত্র
 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ