নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারে বারে আদালত নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর করেনি প্রশাসন। শেষমেশ আদালতের হুঁশিয়ারির পর মঙ্গলবার প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল বেআইনিভাবে তৈরি দোকান। স্থানীয়দের দাবি, এই দোকানগুলি বিজেপির শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ সুকুমার পালের। ভাঙার সময় হাজির ছিলেন বিজেপি নেতার পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিয়ে উচ্ছেদের কাজ শেষ করে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। দেগঙ্গা বাজারে টাকি রোডের ধারে প্রাক্তন সেনাকর্মী বিশ্বজিৎ দাসের বাড়ি। ওই বাড়ির সামনেই রয়েছে সরকারি খাস জমি। বিশ্বজিৎবাবুর অভিযোগ, ২০২০ সালে সেই জমির উপর জোর করে দোকানঘর তৈরি করেন সুকুমার পাল এবং তাঁর ভাইরা। চার ভাইয়ের চারটি দোকান ছিল সেখানে। দোকান তৈরির সময় আপত্তি জানিয়েছিলেন বিশ্বজিৎবাবু। তাঁর দাবি, সেই আপত্তি মানা হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলার শুনানি শেষে ২০২১ সালে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর ফের আদালতের দ্বারস্থ হন বিশ্বজিৎবাবু। ২০২৩ সালেও একই নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। তাতেও কাজ না হওয়ায় ফের আদালতে যান এই প্রাক্তন সেনাকর্মী। শেষমেশ ২০২৬ সালে আদালতের কড়া নির্দেশের পর নতুন করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হয়। মঙ্গলবার সেই নির্দেশই কার্যকর করা হয়েছে।
পুলিশের উপস্থিতিতে এদিন সকাল থেকেই দোকান ভাঙার প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন। দোকান ভাঙার কাজ শুরু করতেই সুকুমারের পরিবারের কয়েকজন মহিলা সামনে এসে বাধা দেন। পুলিশের সঙ্গে বচসা হয় তাঁদের। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে বড়ো গোলমালের আগেই পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। তারপর চলে বুলডোজার। একে একে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় দোকানঘরগুলি। বিশ্বজিৎবাবুর দাবি, ২০২০ সালে স্বপন পাল, মিন্টু পাল এবং সুকুমার পাল আমার বাড়ির সামনে সরকারি জায়গায় জোর করে দোকান তৈরি করেছিলেন। হাইকোর্ট দু’বার ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বার আদালতের নির্দেশে দোকানগুলি ভাঙল প্রশাসন। বিজেপি নেতা সুকুমার পালের বক্তব্য, দেগঙ্গা বাজারে সরকারি জমির উপর আরও দোকান রয়েছে। অথচ শুধু আমাদের দোকানই ভাঙা হল। নিজস্ব চিত্র