Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বরাদ্দ কমিয়ে সাড়ে ৬৩৮ কোটি টাকার বাজেট পেশ, পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর

বরাদ্দ কমল। ঘাটতিও অব্যাহত। তা সত্ত্বেও প্রাপ্তি, সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়নের বাজেট উপহার শিলিগুড়ি পুরসভার। শুক্রবার পুরসভায় ৬৩৮ কোটি ৪২ লক্ষ ৭ হাজার টাকার বাজেট পেশ করার পর এমন কথা বলেন মেয়র গৌতম দেব।

বরাদ্দ কমিয়ে সাড়ে ৬৩৮ কোটি টাকার বাজেট পেশ, পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বরাদ্দ কমল। ঘাটতিও অব্যাহত। তা সত্ত্বেও প্রাপ্তি, সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়নের বাজেট উপহার শিলিগুড়ি পুরসভার। শুক্রবার পুরসভায় ৬৩৮ কোটি ৪২ লক্ষ ৭ হাজার টাকার বাজেট পেশ করার পর এমন কথা বলেন মেয়র গৌতম দেব। বাজেটে কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, শিশুবান্ধব কক্ষ নির্মাণ, ভবন সংস্কার, ভূমিকম্প সুরক্ষা বিধি, পেট্রল পাম্প ও ছায়াস্নিগ্ধ বিদ্যালয় প্রকল্প চালু, মিউজিয়াম, ডিজিটাইল আর্কাইভ তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও সিপিএম বাজেটকে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের পাঁচালি বলেছে। অন্যদিকে, বিজেপি কাল্পনিক বাজেট বলে আখ্যা দিয়েছে। বিধানসভা ভোটের মুখে এনিয়ে শহরের রাজনীতি সরগরম। 

Advertisement

এদিন পুরসভায় ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের জন্য বাজেট পেশ করেন মেয়র। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৬২৭ কোটি ৫৮ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। আর বার্ষিক খরচের পরিমাণ ৬৩৮ কোটি ৪২ লক্ষ ৭ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১০ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা। এছাড়া এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের থেকে কমানো হয়েছে। সেবার বাজেট করা হয়েছিল ৬৮৫ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার। সেই তুলনায় এবারের বাজেটে কমানো হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি ৮১ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা। 
এদিনের  সভায় ৪৫ পাতার বাজেট  পুস্তিকা পাঠের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র বলেন, গত বছর এসটিপি’র সহ কিছু প্রকল্পের জন্য রাজ্য থেকে অর্থ পেয়েছিলাম। তা ওই বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছিল। এবার সেইসব অর্থ উল্লেখ করা হয়নি। তাই বাজেটে সামান্য বরাদ্দ কমেছে। তা হলেও প্রচুর রাস্তা, সেতু, পুরসভার প্রশাসনিক ভবন, অতিথি নিবাস সংস্কার করা হচ্ছে। এই শহর সিসমিক জোন-৬। তাই ভূমিকম্প সুরক্ষা বিধি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১১২ জন অস্থায়ী পুর কর্মচারীর বেতন ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে অসহায় বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও বিধবাদের মাসে প্রদান করা হয় ৫০০ টাকা করে। বর্তমানে এই ভাতা প্রাপকের সংখ্যা ৩১৪৪ জন। এই সুবিধা আরও ৫০০ জনকে প্রদান করা হবে। বয়স্কদের জন্য  চালু করা হবে হেল্প নম্বর। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে ‘ছায়াস্নিগ্ধ বিদ্যালয়’ গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে স্কুলগুলিতে পাঁচটি করে ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করতে হবে। সবুজের অভিযান প্রকল্পে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আরও পাঁচ হাজার গাছ লাগানো হবে। পুরসভার প্রতিটি ভবনে শিশুবান্ধব কক্ষ তৈরি  করা  হবে। সেই কক্ষে শিশুদের স্তন্যপান করাতে পারবেন মায়েরা। ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিজস্ব পেট্রল পাম্প তৈরি করা হবে। এজন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা। 
এমন একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মেয়রের দাবি, এটা প্রাপ্তি, সংস্কার, জনমুখী বাজেট হয়েছে।  
পাল্টা এই বাজেটের সমালোচনা করে কাউন্সিলার তথা সিপিএম নেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, দিশাহীন এই বাজেট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাঁচালি ছাড়া কিছু নয়। পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, এটা কাল্পনিক বাজেটে। এতে শহরের কোনো উন্নয়ন হবে না। 

সম্পর্কিত সংবাদ