কুন্তল পাল, বনগাঁ: সীমান্ত শহর বনগাঁয় দুর্গাপুজোর রমরমা দেখা যায় প্রতিবছর। সেগুলির অনেকগুলিই বিগ বাজেটের পুজো। থিম ও সাবেকি ঢঙের চোখধাঁধানো প্যান্ডেল হয়। এসব কারণে উৎসবের মানচিত্রে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে বনগাঁ। তবে এবার ঐতিহ্যে ছেদ পড়তে চলেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনেক ক্লাব ও সংগঠন পুজো বাজেট কাটছাঁট করেছে। বাসিন্দারা এ খবরে হতাশ। বনগাঁর বড়ো পুজোর মধ্যে প্রথমে নাম আসে প্রতাপগড় স্পোর্টিং ক্লাবের। পুজোর সময় মিলনমেলায় পরিণত হয় সে এলাকা। বহু দূর থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। এ মাঠে তাঁরা বিশ্রাম নেন। এখানকার চোখধাঁধানো প্যান্ডেল তাঁদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয়। এবার কিছুটা হলেও আয়োজনে ভাটা। প্যান্ডেলের কাজ পুরোদমে চলছে বটে তবে গত কয়েকবছর যে জৌলুস দেখা গিয়েছিল তা অনেকটাই কম বলে অনেকের বক্তব্য।
একসময় বনগাঁ ১২’র পল্লি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো ছিল শহরের মূল আকর্ষণ। বিশাল প্যান্ডেল, চোখধাঁধানো আলো। নামকরা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা পুজোর উদ্বোধন করতেন। এবছর পুজোর আয়োজনে সকলেই হতাশ। একসময় ২৫ লক্ষ টাকা বাজেটের পুজো হত। এবছর এই পুজোর বাজেট ৬ লক্ষ টাকা। কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘লোকনাথ ব্রহ্মচারীর অনুষ্ঠান বড়ো করে করা হয়। সেখানে অনেকটাই খরচ হয়। তাছাড়া এ বছর নতুন সরকার আসায় চাঁদা আদায় হবে কি না বা ব্যবসায়ীরা চাঁদা দেবেন কি না ভেবে আমরা বাজেট কাটছাঁট করেছি।’
গত কয়েক বছর বিগ বাজেটের পুজো করেছিল বনগাঁ আয়রন গেট স্পোর্টিং ক্লাব। এবছর কিছুটা হলেও তাদের পুজোর বাজেটে কোপ পড়েছে। শহরের আরও বেশ কয়েকটি পুজো উদ্যোক্তা নিজেদের বাজেট কিছুটা হলেও কাটছাঁট করেছেন। এবছর পুজোর অন্যতম আকর্ষণ বনগাঁ ঐক্য সম্মিলনী ক্লাব। এবছর তাদের থিম ‘অযোধ্যার রামমন্দির’। এছাড়াও রেটপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব, গান্ধিপল্লি বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব, অভিযান সংঘের পুজো শুরুতেই সাড়া ফেলে দিয়েছে।