রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজ সংস্কারক, মনীষী এবং প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের ছবি রয়েছে বিধানসভার অন্দরে। আরো একটু স্পষ্ট করে বললে, মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশের পরই বিধানসভার লবি। কিন্তু এই সারণিতে নেই প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি। তৃণমূল জমানায় মাত্র একবার আলোচনা হয়েছিল বুদ্ধদেবের ছবি বসানো নিয়ে। কিন্তু তা আলোচনার স্তরেই থেকে যায়। পরবর্তী ধাপ আর এগোয়নি। কিন্তু এবার বিজেপি জমানায় বিধানসভার অন্দরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি বসুক, সেই প্রস্তাব তুলেছেন সিপিএম বিধায়ক। তিনি এ-ব্যাপারে স্পিকারের কাছে লিখিত প্রস্তাবও দিতে চলেছেন।
বিধানসভার অন্দরে এখন মোট ছবির সংখ্যা ৯৮। স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজ সংস্কারক, মনীষী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি রয়েছে। বাংলার সঙ্গে যাঁদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, মূলত তাঁদেরই ছবি বিধানসভার লবিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বেশিরভাগই জল রঙের ছবি। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওই ছবিকে সামনে রেখেই জন্ম-মৃত্যু দিন যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয় বিধানসভায়।
রাজনৈতিক ব্যক্তি বা বাংলার প্রশাসনের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদেরও ছবি রয়েছে। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ, বিধানচন্দ্র রায়, অজয় মুখোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থশংকর রায় এবং জ্যোতি বসুর ছবি রয়েছে বিধানসভার অলিন্দে। কিন্তু এই তালিকায় নেই বাংলায় ১০ বছর ১৯৫ দিনের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার সামলানো বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি। ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছিলেন বুদ্ধদেববাবু। ২০১১ সালের ২০ মে পর্যন্ত বুদ্ধদেববাবু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বুদ্ধদেববাবুর ছবি বিধানসভায় বসুক, এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিধানসভার সচিবালয়ের আধিকারিকদের ডেকে একবার আলোচনাও করেছিলেন। কিন্তু কোনো ‘অজ্ঞাত’ কারণে সেই আলোচনা আর এগোয়নি। বুদ্ধদেববাবুর ছবি বিধানসভায় বসুক, এমন সিদ্ধান্ত আর গ্রহণ করা হয়নি।
এবার বিজেপি সরকারের আমলে সিপিএম নেতৃত্ব চাইছেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হোক বিধানসভায়। তাঁর ছবি বিধানসভায় বসুক এবং জন্ম-মৃত্যুর দিনে তাঁর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হোক। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের জয়ী একমাত্র বিধায়ক মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (রানা) বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাংলায় অবদান অবিস্মরণীয়। বুদ্ধদেববাবুর ছবি বিধানসভায় বসুক, সেটা আমি চাই এবং তাঁর ছবিকে সামনে রেখে জন্ম-মৃত্যু দিনেও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হোক। আসন্ন বিধানসভার অধিবেশনে স্পিকারের কাছে আমি লিখিতভাবে অনুরোধ জানাব, বিধানসভায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি বসানো হোক।