Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেতন বন্ধের অভিযোগে অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ পিএইচইর ঠিকা শ্রমিকদের

বেতন বন্ধের অভিযোগে অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ পিএইচইর ঠিকা শ্রমিকদের
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: স্বাধীনতার ৭৫বছর পরও শিল্পাঞ্চলে পানীয় জলের সঙ্কট মেটেনি। কুলটি, আসানসোল, জামুড়িয়ায় পৃথক জলপ্রকল্প করেও সমস্যায় জেরবার বাসিন্দারা। এবার আরও বড় সঙ্কটের সামনে দাঁড়িয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা। পিএইচইর ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া। ঠিকাদাররা শ্রমিকদের বেতন দেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন। বেতন না পেয়ে বুধবার জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন ঠিকাশ্রমিকরা। বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছনোর জন্য ভাল্ব খোলা থেকে পাম্প অপারেট করা লোকজন বেতন না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিলে ব্যাপক জলসঙ্কটে পড়বে পশ্চিম বর্ধমান জেলা। উদ্বেগ বাড়ছে সর্বস্তরে। 
Advertisement
এদিন সকাল থেকে আসানসোলের ইসমাইলে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের ঠিকাশ্রমিকরা জমায়েত হন। অফিসের মূল গেটের সামনে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাঁদের দাবি, পিএইচইর প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণ, জনপ্রকল্পগুলি সচল রাখার সব কাজই তাঁরা করেন। মূলত ঠিকাদাররা তাঁদের বেতন দিয়ে কাজ সচল রাখেন। অভিযোগ, গত ডিসেম্বর মাস থেকেই বেতন নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে। দুর্গাপুর, বারাবনি, পাঁচগাছিয়া, দেন্দুয়া, সালানপুর এলাকায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিকাদাররা। বাকি ঠিকাদাররাও জানিয়েছেন, সরকার থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। বেতন বন্ধের আতঙ্ক গ্রাস করেছে শ্রমিকদের। তাঁদের দাবি, তাঁরা কাজ বন্ধ করে দিলে মানুষকে জল না খেয়ে থাকতে হবে। তাই কাজ চালু রেখেই আন্দোলন শুরু হয়েছে। বেতন না পেয়ে কতদিন কাজ চালু রাখা যাবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। 
আন্দোলনকারী পাঁচগাছিয়ার বন্দনা রায়, দুর্গাপুরের বিনয় দে বলেন, জেলাজুড়েই এই সমস্যা শুরু হয়েছে। খনি অঞ্চলের মানুষ সম্পূর্ণভাবেই পাইপলা‌ই঩নের জলের উপর নির্ভরশীল। নলকূপ বসিয়ে এখানে জল পাওয়া যায় না। মানুষ জল না পেলে সমস্যায় পড়বেন। তাই বাধ্য হয়ে কাজ চালু রেখেছি। নিজেদের পেটে কিল মেরে কতদিন কাজ করা যাবে? ঠিকাদারদের দাবি, জেলায় পিএইচইর প্রায় ২০০ঠিকাদার রয়েছেন। সবার বকেয়া ধরলে তাঁরা সরকারের কাছ থেকে ৫০০কোটি টাকা পাবেন। পুরনো জলপ্রকল্পগুলি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দু’বছর কোন টাকা পাওয়া যায়নি। নতুন জলপ্রকল্পগুলির কাজেরও বহু টাকা বকেয়া। ঠিকাদার মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, অমিত মল্লিক, দিলীপ দাসরা বলেন, নতুন জলপ্রকল্পের জন্য পা‌ইপ বসানোর পর রাস্তা সংস্কার হয় না বলে প্রশ্ন তোলা হয়। আমরা রাস্তা সংস্কার করব কোথা থেকে? কোনও টাকাই তো পাচ্ছি না। পরিষেবায় প্রভাব পড়তেই পারে।  পিএইচইর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রূপম ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বহু টাকা বাকি রয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মলয় ঘটকের নেতৃত্ব আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেছি। কিছু ঠিকাদারের টাকা বাকি আছে। দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে। মনে রাখবেন, কেন্দ্রীয় সরকার সব প্রকল্পেই বাংলাকে বঞ্চনা করছে। জল প্রকল্পও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের রাজ্য সরকার সব চাপ সামলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছে।-নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ