সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: বাটাম দিয়ে পিটিয়ে বউদিকে মেরে ফেলার অভিযোগ দেওরের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম বীণা ওরাওঁ। রবিবার এই ঘটনায় মৃতার স্বামী ময়নাগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তে নেমে বিকেলেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। অভিযুক্তর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গৃহবধূর স্বামী তথা অভিযুক্তর দাদা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ময়নাগুড়ি ব্লকের রামসাই গ্রাম পঞ্চায়েতের বারোহাতি এলাকায়।
Advertisement
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে খবর, কালীপুজো উপলক্ষ্যে ১ তারিখ বীণা বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আত্মীয়রা এসেছিলেন। সারাদিন খাটনি হওয়ার সন্ধ্যা নাগাদ বীণা এবং তাঁর স্বামী সানিতেরোয়া ওরাওঁ ক্লান্ত হয়ে ঘরে শুয়ে পড়েন। তারা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। অভিযোগ, সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ বধূর দেওয়র পুনা ওরাওঁ লাথি দিয়ে সেই ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর বাটাম দিয়ে অনবরত বউদিকে আঘাত করে। স্ত্রীকে বাঁচাতে আসেন সানিতেরোয়া ওরাওঁ। তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর স্ত্রীর রক্তাক্ত চেহারা দেখে চিৎকার শুরু করেন সানিতেরোয়া। বাড়ির অন্যরা ছুটে এলে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। এরপর আহত বধূকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে। জখম গুরুতর হওয়ায় জলপাইগুড়ির হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হয় সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় শিলিগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। কিন্তু, শনিবার দুপুরে মৃত্যু হয় ওই বধূর। স্ত্রীর মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন স্বামী। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভাইয়ের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। মৃতার স্বামী বলেন, ভাই প্রায়ই নেশা করে বাড়ি এসে চিৎকার চেঁচামেচি করে। প্রতিদিনই এই সমস্যা চলছিল। সে কারণে আমার স্ত্রী শাসন করেছিল ভাইকে। সে কারণেই ভাই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্ত্রীকে খুন করেছে। এদিকে অভিযুক্ত মারধরের অভিযোগ স্বীকার করেছে।



