Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বুথ স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে জনসংযোগে অতিরিক্ত নজর তৃণমূলের, ২০২৬-এর লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার বার্তা ঘাসফুল শিবিরের  

বুথ স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে জনসংযোগে অতিরিক্ত নজর তৃণমূলের, ২০২৬-এর লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার বার্তা ঘাসফুল শিবিরের
 
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর:  লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। তাই বছরের প্রথম দিন থেকেই বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করতে ঝাঁপানোর বার্তা দিচ্ছেন তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। একইসঙ্গে জেলা নেতৃত্বের তরফে জনসংযোগে বাড়তি নজর দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। গোটা বছর ধরেই তৃণমূলের তরফে নানা কর্মসূচি, গ্রামীণ এলাকায় বুথ স্তরে একাধিক বৈঠক হবে। অপরদিকে সকলকে একসাথে চলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বুথ স্তরে কোনও খামতি থাকলে সেটাও দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এদিন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন হয় জেলার বেশিরভাগ দলীয় কার্যালয়ে। উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রথম সারির নেতারা। প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের পাশাপাশি বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করার বার্তা দেওয়া হয় দলের কর্মী সমর্থকদের। 
Advertisement
এদিন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, আমাদের লক্ষ্য সংগঠনকে আরও মজবুত করা। বর্তমানে মানুষ নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, সারা বছর ধরে উন্নয়নের কথাও তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সারা বছর পড়াশোনা করলে পরীক্ষার সময় কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে না। 
প্রসঙ্গত,  ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধীদের সংগঠন কমতে শুরু করে। একের পর এক নির্বাচনের ফলাফল তার প্রমাণ।  অপরদিকে, তৃণমূলের ভোট বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করে গোষ্ঠীকোন্দল, যা একেবারেই ভালো চোখে দেখেছে না তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব। গত লোকসভা ভোট এবং উপ নির্বাচনেও গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে,  আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠন ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু এলাকায় তৃণমূল নেতাদের জনসংযোগে ঘাটতি থাকায় ভোট বাক্সে তার প্রভাব পড়ছে। জনসংযোগ তলানিতে আসায় শহরের ভোট কমেছে। গত মেদিনীপুর বিধানসভার উপ নির্বাচনে সাতটি ওয়ার্ডে হেরেছে তৃণমূল। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে একশো শতাংশ সিট কনফার্ম করতে চাইছে জেলা নেতৃত্ব। 
এক তৃণমূল নেতা বলেন, নতুন অর্গানাইজেশনাল স্ট্রাকচারে একাধিক রদবদল হবে। বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করতে চাইছে জেলা নেতৃত্ব। তবে সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথার কারণ গোষ্ঠী কোন্দল। এক গোষ্ঠীর নেতা অপর গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীদের একেবারে পছন্দ করছেন না। যার কিছুটা প্রভাব পড়ছে ভোট বাক্সে। এতদিন বুথ স্তরে সংগঠন বৃদ্ধিতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে নতুন বছরে জেলার প্রতিটি বুথে বিশেষ নজর দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। 
এদিন প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, প্রায় ৩৪ বছর সিপিএমের অত্যাচার দেখেছেন সাধারণ মানুষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেই দলকে ক্ষমতায় এনেছেন। তাঁর হাত আরও শক্তিশালী করতে হবে। কোনও গ্রুপবাজি চলবে না। দলের ক্ষতি হবে এমন কাজ মেনে নেওয়া হবে না। 
এনিয়ে এদিন জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস কটাক্ষের সুরে বলেন, বুথ স্তরে তোলাবাজি আরও নিখুঁত করতেই এই পরিকল্পনা। আর গোষ্ঠী কোন্দল দিয়েই তৃণমূলের পরিচিতি। আগামী নির্বাচনে ফল পেয়ে যাবে তৃণমূল।
সম্পর্কিত সংবাদ