নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বারাকপুর: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তর শহরতলি। বিটি রোডের বড় অংশ কার্যত জলের নীচে চলে যায়। স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালে জল ওঠায় ভোগান্তির শিকার হন মানুষ। বরানগর, বারাকপুর, পানহাটি— সর্বত্র ছিল একই ছবি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বারাকপুর: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তর শহরতলি। বিটি রোডের বড় অংশ কার্যত জলের নীচে চলে যায়। স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালে জল ওঠায় ভোগান্তির শিকার হন মানুষ। বরানগর, বারাকপুর, পানহাটি— সর্বত্র ছিল একই ছবি।
মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া জলযন্ত্রণা রাতেও কমেনি। প্রতিটি পুরসভা দুর্ভোগ কমাতে পাম্প চালিয়ে সকাল থেকে জল নামানোর চেষ্টা শুরু করে।
স্থানীয়দের দাবি, সিঁথির মোড় পেরলেই ডানলপগামী বিটি রোডে জল যন্ত্রণা মারাত্মক আকার নিয়েছিল। ঘোষপাড়া মোড়, বরানগর থানা, টবিন রোড, বনহুগলি মোড় পর্যন্ত বিটি রোড কার্যত জলের তলায় ছিল। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমর সমান জল দাঁড়ায়। বিটি রোডের সংযোগকারী সমস্ত রাস্তা, পার্শ্ববর্তী বাজার, আবাসন ও বাড়িতেও জল ওঠে। বিটি রোড লাগোয়া ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের গেটে কোমরের কাছাকাছি জল উঠে গিয়েছিল। ক্যাম্পাসেও জল দাঁড়িয়ে যায়। ডানলপ মোড় পার করে বিটি রোড ধরে কামারহাটি ও পানিহাটির দিকে যত এগনো গিয়েছে, পরিস্থিতি ততই ভয়াবহ হয়েছে। পানিহাটি শহর কার্যত ভাসছে। পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সহ বিভিন্ন বিভাগে জল ঢুকে যাওয়ায় পরিষেবা ব্যাহত হয়। ঘোলা থানার একতলা জলমগ্ন হয়ে গিয়েছিল। লকআপেও জল দাঁড়িয়ে যায়। পুলিসকর্মীরা চেয়ারের উপর পা তুলে বসে কাজ করতে বাধ্য হন। খড়দহ বলরাম হাসপাতালে জল ঢুকে পড়ায় পরিষেবা শিকেয় ওঠে। আউটডোরের বিভিন্ন বিভাগ, ইমারজেন্সি সহ লিফটেও জল ঢুকে যায়। ব্যাহত হয় চিকিৎসা পরিষেবা। একইভাবে দুর্ভোগের শিকার হন উত্তর দমদম, দমদম ও দক্ষিণ দমদমের বাসিন্দারাও। বারাকপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ বারিক বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কিছু কিছু এলাকায় জল জমেছে। পাম্প বসিয়ে জল সরানোর কাজ করছে পুরসভাগুলি।
এদিন বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বারাকপুর স্টেশনে রেল লাইনের ধারে জমা জল পাম্প চালিয়ে বের করতে হয়। নৈহাটির মামুদপুর এলাকায় সুভাষপল্লি গ্রামে জল জমার কারণে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় জল দাঁড়িয়ে যায়। জল দাঁড়িয়েছে বারাকপুর পুরসভার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। বারাকপুর বারাসত রোড, সেন্ট্রাল রোড, ওল্ড ক্যালকাটা রোড, এস এন ব্যানার্জি রোডেও জল দাঁড়িয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় পাম্প চালানো হয়েছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের নিকাশি সমস্যার জন্য নতুন করে ড্রেন তৈরি করা না হলে এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে। বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস জানিয়েছেন, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সাড়ে তিন ফুট উঁচু হয়ে গিয়েছে। তার জেরে সংলগ্ন এলাকায় জল দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। নিকাশির পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিকাশি নালা তৈরি হয়ে গেলে সমস্যা মিটবে।