Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়িতে ঢুকে সাইকেল, রান্নার সামগ্রী চুরি, বোলপুর-শান্তিনিকেতনে ছিঁচকে চোরের ‘উপদ্রব’

বাড়িতে ঢুকে সাইকেল, রান্নার সামগ্রী চুরি, বোলপুর-শান্তিনিকেতনে ছিঁচকে চোরের ‘উপদ্রব’
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: শীতের অলস দুপুরে ভাতঘুম দিতে কার না ইচ্ছা করে। তেমনই করেছিলেন বিশ্বভারতীর শিক্ষাভবনের ছাত্রী সুস্মিতা মণ্ডল। তিনি সহপাঠীর সঙ্গে শান্তিনিকেতনের সীমান্তপল্লিতে ভাড়া থাকেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাড়ির ভিতরের বারান্দায় কড়াই, হাঁড়ি, বাটি সহ রান্নার নানা বাসন রেখেছিলেন। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দু’জনেরই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। বারান্দায় একটা বাসনও পড়ে নেই। পাঁচিল টপকে বাড়ি ঢুকে জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়েছে ছিঁচকে চোরের দল। বোলপুর-শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন জায়গায় এমনই ঘটনা ঘটছে। ছিঁচকে চোরের উপদ্রব বেড়েছে। তা সত্ত্বেও পুলিস-প্রশাসনের নজর নেই বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ‌নিয়মিত টহল দেওয়া হয় না বলেই নেশাগ্রস্ত যুবকরা এধরনের চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। ‌যদিও পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 
Advertisement
বোলপুর ও শান্তিনিকেতন পাশাপাশি দুই থানার যুব সমাজের একাংশের মধ্যে সম্প্রতি নেশা করার প্রবণতা বেড়েছে। বোলপুর থানার ডাকবাংলো মাঠ সংলগ্ন নির্জন এলাকার গলিগুলিতে গাঁজা, হেরোইন প্রভৃতি মাদক সেবন করতে দেখা যায় কমবয়সি ছেলে-মেয়েদের। একইভাবে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস সংলগ্ন লালবাঁধ, পূর্বপল্লি, সীমান্তপল্লি, রতনপল্লির মতো নির্জন জায়গায় দুপুর ও সন্ধ্যায় যুব সমাজের একাংশকে নেশায় মত্ত থাকতে দেখা যায়। কিন্তু নিয়মিত নেশার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন। তা জোগাড়‌ করতেই অনেকে চুরি করছে। ফলে গৃহস্থের বাড়ি থেকে লোপাট হচ্ছে সাইকেল, রান্নার বাসন ও অন্যান্য ঘর সাজানোর সামগ্রী। সেগুলি বিক্রি করে কোনওভাবে নেশার সামগ্রী জোগাড় করছে ছিঁচকে নেশাড়ুরা। শিক্ষাসত্রের শিক্ষক কৌস্তুভ বরাট ও সঙ্গীত ভবনের মনিপুরী নৃত্যের গবেষক তন্ময় পাল বলেন, আমরা দুই সহপাঠী দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপল্লিতে একসঙ্গে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকি। এলাকাটি নির্জন হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই চুরি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেই দু’জনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাসনপত্র চুরি করে চম্পট দিয়েছে চোরের দল। চুরি যাওয়া সামগ্রী এতটাই সাধারণ যে থানায় অভিযোগ জানানোও হয়নি।‌ পুলিস নিয়মিত টহল দিলে এধরনের ঘটনা আটকানো যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বাস করলেও সেভাবে পুলিসকে টহল দিতে কখনও দেখিনি। ফলে নজরদারি না থাকায় এধরনের ঘটনা আশপাশের বাড়িতেও মাঝেমধ্যে ঘটছে। এপ্রসঙ্গে শান্তিনিকেতন থানার এক অফিসার বলেন, চুরি-ছিনতাই প্রভৃতি ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য শান্তিনিকেতনের সর্বত্রই টহল দেওয়া হয়। ‌অতীতে চুরির ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাই অভিযোগ জানানো হলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ