Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাস্তবে পরিবারে চার সদস্য, ভোটার তালিকায় নাম সাতজনের! শোরগোল

বাস্তবে পরিবারে চার সদস্য, ভোটার তালিকায় নাম সাতজনের! শোরগোল
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বাস্তবে পরিবারের সদস্য সংখ্যা চার। কিন্তু ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে সেটাই সাত। অতিরিক্ত তিন সদস্য বিহারের বাসিন্দা হওয়ায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এমন ভোটার তালিকা দেখে পরিবারের সদস্যদের চোখও কপালে উঠেছে। এনিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও বিজেপি সেসব মানতে নারাজ।
Advertisement
নেতাজি ইন্ডোরে দলীয় সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সমস্ত বুথে ভুতুড়ে ভোটার খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। তৃণমূলের দাবি, ভুতুড়ে ভোটার ঢুকিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে নির্বাচনী ফলাফল আলাদা করার অপপ্রয়াস চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। এরপরেই নেত্রীর নির্দেশে প্রত্যেকটি বুথে তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে জেলা নেতৃত্ব ভোটার তালিকা সরজমিনে খতিয়ে দেখছেন। তারই অংশ হিসেবে বুধবার সকালে ইংলিশবাজার পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা অনুযায়ী নাম মিলিয়ে দেখেন। সেই সময় ওই বুথের ১৫১ নম্বর পার্টে তিনজন ভুয়ো ভোটারের সন্ধান পাওয়া যায়। 
যাঁর পরিবারে এই গরমিল দেখা গিয়েছে, সেই সুব্রত চৌধুরী জানান, তাঁদের বাড়িতে সদস্য সংখ্যা চার। ভোটার তালিকায় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকা অতিরিক্ত তিন জনকে কোনওভাবে চিনতে পারছেন না। তবে কি ওই তিনজন বিহারের বাসিন্দা? তাঁদের বাড়িতে কি কখনও ভাড়ায় ছিলেন। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেন সুব্রত।  প্রতিবেশী এবং স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাও বাকি তিন ভোটার আদিত্য কুমার চৌধুরী, ত্রিপুরা কুমারী চৌধুরী ও বিন্ধ্যনাথ চৌধুরীকে চিনতে পারছেন না। 
স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার নিবেদিতা কুন্ডু বলেন, এদিন ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলাতে গিয়ে দেখি সুব্রত চৌধুরী সহ তাঁদের চারজনের পরিবারের সঙ্গে আরও তিনজনের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ভোটার হেল্পলাইনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই তিন ভোটার বিহারের বাসিন্দা। 
তৃণমূল কংগ্রেসের মালদহ জেলার মুখপাত্র আশীষ কুন্ডুর কথায়, বিজেপির এই চক্রান্ত ভেস্তে দেওয়ার জন্য আমাদের দলের কর্মীরা সর্বদা সজাগ। 
তবে ভোটার তালিকায় কারচুপির তত্ত্ব মানতে নারাজ পদ্ম শিবির। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পার্থসারথি ঘোষ বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন করেন রাজ্য সরকারের কর্মীরা। এখানে বিরোধী দলের কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। সেখান থেকে নজর ঘোরাতেই এখন এই সমস্ত নাটক করা হচ্ছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ