Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বসতি গড়লেও চাষের জমি, পানীয় জলের সমস্যায় জেরবার কলাবেড়ার বাসিন্দারা

বসতি গড়লেও চাষের জমি, পানীয় জলের সমস্যায় জেরবার কলাবেড়ার বাসিন্দারা
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: একসময় পাহাড়ে একঘণ্টা হেঁটে যাওয়া ছাড়া গ্রামে পৌঁছনোর কোনও গতি ছিল না। ভৌগোলিক বাধা একসময় দুর্বিষহ করে তুলেছিল বাসিন্দাদের জীবন। সেই সঙ্গে রাতে মাওবাদী আতঙ্ক। আর দিনের আলো ফুটলেই জুটতো পুলিসের ধড়পাকড়। এখন সেসব অতীত। আস্ত গ্রামকেই কার্যত পাহাড়ের নীচে নামিয়ে এনেছে প্রশাসন। তৈরি করে দিয়েছে বাড়ি। মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও চাষের জমি, পানীয় জল সহ সমস্যা এখনও রয়েছে বলরামপুরের ঘাটবেড়া কেরোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কলাবেড়া গ্রামে। 
Advertisement
প্রায় ১০ বছর আগে দুর্গম ওই গ্রামের বাসিন্দাদের পাহাড়ের নীচে নামিয়ে আনে প্রশাসন। বনদপ্তরের জমিতেই ওই গ্রামের ৩২টি পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরি করে দেয় প্রশাসন। পাহাড়ের উপরে থাকা স্কুলও সেই সময় থেকে নীচে এনে নতুন ভবন তৈরি করা হয়। এই কলাবেড়া গ্রামে পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। গ্রামের বৃদ্ধা ভারতী পাহাড়িয়া বলেন, আগে খাটিয়া করে পাহাড়ী পথে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হতো। রাস্তা এতটাই সরু ছিল যে চারজন একসঙ্গে যেতে পারত না। এখন বাড়ি পর্যন্ত গাড়ি চলে আসছে। কলাবেড়া গ্রামের বাসিন্দাদের যে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে এটা ভাবলেই অবাক লাগে। তবে এখনও জঙ্গলের শুকনো কাঠ বিক্রি করেই সবার সংসার চলে। সরকার চাষের জমি দেবে বলেছিল শুনেছিলাম। কিন্তু আর কেউ কিছু বলে না এখন। বিধবাভাতা এবং রেশনের চালটুকুই বড় ভরসা। ওই গ্রামের বাসিন্দা পুইতু পাহাড়িয়া বলেন, কলাবেড়া গ্রামের পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে সবাইকে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হতো। রাতে মাওবাদী আসতো। কিছু বলতে গেলেই মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে রাখত। কারও কোনও শব্দ করার সাহস ছিল না। তারপর দিনের আলো ফুটলেই পুলিশ এসে পৌঁছত। আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারতাম না। সবসময় মনে হতো এই বুঝি মাওবাদী না হলে পুলিশ চলে এল। এখন আর মাওবাদীর আতঙ্ক নেই। পুলিশও এখন পাল্টে গিয়েছে। পুলিশ গ্রামে আসে। ভালোভাবে কথা বলে। সুবিধা-অসুবিধার কথা জিজ্ঞাসা করে। তবে, পাহাড়ের উপরের পুরনো গ্রামে অনেক স্বাচ্ছন্দ ছিল। জায়গা বেশি ছিল। নিজের মতো ছাগল গোরুর রাখা যেত। এখন জায়গা একদম কম। ওই গ্রামের বাসিন্দা কালীপদ পাহাড়িয়া, জবা পাহাড়িয়া বলেন, গ্রামে শান্তি এসেছে একথা ঠিক। কিন্তু পাহাড়ের উপরেও যেমন কাঠ বিক্রি করাই একমাত্র জীবিকা ছিল। এখনও সেটাই রয়ে গিয়েছে। চাষবাসের জমি নেই। 
একমাত্র যে টিউবওয়েল রয়েছে সেটাও দীর্ঘদিন খারাপ হয়ে রয়েছে। পাহাড় থেকে নীচে নামিয়ে একদিকে যেমন অনেক সুবিধা করে দিয়েছে প্রশাসন। তেমনই আবার কিছু সমস্যাও হয়েছে। সংসার বাড়ছে। কিন্তু ওই সামান্য ঘরটুকু ছাড়া পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। এনিয়ে বলরামপুরের বিডিও সৌগত চৌধুরী বলেন, ওই গ্রামের সমস্যার বিষয়ে শুনেছি। ওইগুলি আমাদের বার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত তা সমাধান করা হবে।
 
সম্পর্কিত সংবাদ