সংবাদদাতা, করিমপুর: আবহাওয়ার পূর্বাভাস মত শনিবার শিলাবৃষ্টির ভয় থাকলেও করিমপুরের বিভিন্ন জায়গায় হাল্কা থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তাতে ঝোড়ো হাওয়া বা শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় আনাজ বা কলা চাষের ক্ষতি না হলেও অন্যান্য রবিশস্য সর্ষে, মসুর গম চাষে ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। মাঠের বেশিরভাগ সর্ষে এখনও ঘরে ওঠেনি। এছাড়াও রয়েছে মাঠ ভর্তি মসুর ডাল ও গম গাছ। হোগলবেড়িয়ার চাষি সাধন প্রামাণিক বলেন, রবিশস্যের মধ্যে এই এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সর্ষে, মসুর, অড়হর, বখরম, মটর ও গম চাষ হয়েছে। একদিনে এলাকার কোথাও কোথাও হাল্কা বৃষ্টিতে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। এখন আরও বৃষ্টি হলে জমিতে থাকা সর্ষের ক্ষতি হবে পাশাপাশি এই মুহূর্তে একটু বৃষ্টি হলেই মসুর ডাল ও গমের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। এখন গমের শীষ বেরিয়েছে। গমে দানা হওয়ার আগে বৃষ্টির জল পড়লে হলুদ হয়ে গমের গাছ শুকিয়ে যেতে পারে এবং ফলন হবে না। কারন সেই গাছের দানা মরে যাবে। যেখানে সামান্য হাওয়া হয়েছে সেখানে গমের মাথা ভেঙে পড়েছে। গোপালপুরের চাষি আলাহিম মণ্ডল জানান, এইসময়ে একফোটা বৃষ্টির জল বিষের মত। সেই সামান্য জল যেকোনও ফসলে পড়লেই তার ক্ষতি হবেই। বিশেষ করে অনেক জমিতে মসুর ও সর্ষে পেকে গিয়েছে। সেগুলো কেটে ঝাড়াই করে ঘরে তোলার সময়। এখন বৃষ্টি হওয়ায় সেসব ঝাড়াই করতে চরম সমস্যায় পড়তে হবে। কাঠালিয়ার পেঁয়াজ চাষি চন্দন মজুমদার বলেন, অনেক জমির পেঁয়াজ উঠে গেলেও দেরিতে চাষ করা পেঁয়াজ এখনও জমিতেই রয়ে গিয়েছে। এমনিতেই এবার আবহাওয়ার কারনে মাটির নিচে পেঁয়াজের বৃদ্ধি সেভাবে হয়নি অর্থাৎ পেঁয়াজের আকার ছোট রয়েছে। ফলে উৎপাদনও কম হবে। সাধারণত এক বিঘা জমিতে যেখানে প্রায় দশ কুইন্টাল পেঁয়াজ ফলে। এবার ক্ষতি হলে সেই উৎপাদন অনেক কমে যাবে। তাছাড়া বৃষ্টি হলে পেয়াজ তোলায় সমস্যা হয় কারন পেয়াজে কাদা লেগে থাকলে তা পচে যায়। আবার যে পেয়াজের কলি কেটে ফেলা হয়েছে সেই অংশে জল পড়েও পেয়াজ পচে ক্ষতি হয়। এই মেঘলা আবহাওয়া ও বৃষ্টিতে সজনে ফুল আর আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। যেটুকু বেঁচে যাবে সে আবার কালবৈশাখীতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
Advertisement
করিমপুরের চাষি স্বপন বিশ্বাস বলেন, শিকারপুর এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে হাল্কা বাতাস হওয়ায় কলাগাছ ও গম গাছ মাটিতে পরে গিয়েছে। সেখানে বেশি ক্ষতি হবে। তবে রবিশস্যে ক্ষতি হলেও বৃষ্টিতে আনাজ চাষে সুবিধা হবে। এখন এলাকার প্রধান ফল আম ও লিচুর গাছে ফুল বা মুকুল আসছে। এই মেঘলা ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় সেগুলিও নষ্ট হবে। এদিনের বৃষ্টিতে কলা চাষে সরাসরি ক্ষতি না হলেও একটু বাতাস হলেই গাছ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।



