সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরের মথুরাবিহারী গ্রামে শিবরাত্রির মিলন মেলায় মেতে উঠলেন এলাকার বাসিন্দারা। গ্রামের রানিসায়রের পাড়ে থাকা একটি প্রাচীন পাথর ঘিরে দেবীদুর্গার পুজো হয়। শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে সেখানে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। মেলা কমিটির আয়োজকরা বলেন, আগে শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে কেবলমাত্র হরিনাম সংকীর্তন আয়োজিত হতো। গত কয়েকবছর ধরে গ্রামে তিনদিন ধরে শিবরাত্রি মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এবারও আশপাশের নানা গ্রামের দর্শনার্থীরা মেলায় ভিড় জমাচ্ছেন।
Advertisement
কথিত আছে, বহুদিন আগে গ্রামের এক দরিদ্র ব্যক্তি রানিসায়রের পাড়ে এসে দেবী দুর্গাকে ভক্তিভরে স্মরণ করতেন। দেবী সেখানে একটি পাথরের উপর বসে তাঁর সমস্ত মনোকামনা পূর্ণ করতেন। এমনকী, ওই ব্যক্তি দেবীর কৃপায় মেয়ের বিয়ের গয়না পর্যন্ত পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে একথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে গ্রামের মানুষ ওই পাথরকে দেবীর আসন হিসেবে পুজো করেন। শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে কয়েকবছর ধরে সেখানে মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। ক্রমশ মেলা জমজমাট হয়ে ওঠায় মথুরাবিহারী ছাড়াও সংলগ্ন ভড়া, গুমুট, ধর্মপুর সহ আট-দশটি গ্রামের মানুষ প্রতিবার এখানে আসেন। এবারও বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমাগমে মেলাটি প্রকৃত অর্থেই মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। আয়োজকদের তরফে গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, মেলা উপলক্ষ্যে রানিসায়রের পাড়ে বিভিন্ন মূর্তির সাহায্যে পৌরাণিক ও সামাজিক নানা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। রানিসায়রে বোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। মেলার পাশাপাশি পুরনো রীতি মেনে তিনদিন ধরে হরিনাম সংকীর্তনও আয়োজিত হচ্ছে।
ভড়া গ্রামের বাসিন্দা সত্যজিৎ রায় বলেন, মথুরাবিহারী গ্রাম প্রত্যন্ত এলাকা। একটি লোককাহিনী ঘিরে গ্রামের মানুষের বিশ্বাস আর ভরসার পীঠস্থান হয়ে উঠেছে এখানকার রানিসায়র। এখন মেলার ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। নানা জায়গা থেকে মানুষ আসায় এটি মিলন মেলার রূপ নিয়েছে।
ভড়া গ্রামের বাসিন্দা সত্যজিৎ রায় বলেন, মথুরাবিহারী গ্রাম প্রত্যন্ত এলাকা। একটি লোককাহিনী ঘিরে গ্রামের মানুষের বিশ্বাস আর ভরসার পীঠস্থান হয়ে উঠেছে এখানকার রানিসায়র। এখন মেলার ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। নানা জায়গা থেকে মানুষ আসায় এটি মিলন মেলার রূপ নিয়েছে।



