Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্যজেলায় আড়াই লক্ষ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে বিসিজি টিকা

বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্যজেলায় আড়াই লক্ষ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে বিসিজি টিকা
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্যজেলায় আড়াই লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে বিসিজি টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই স্বাস্থ্যজেলার আটটি কেন্দ্রে ১ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাকরণ শুরু হয়েছে। তিনমাস ধরে তা চলবে। 
Advertisement
জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূলীকরণ কর্মসূচির বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্যজেলার প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর অনির্বাণ সামন্ত বলেন, রাধানগর, সোনামুখী, পাত্রসায়র, ইন্দাস, কোতুলপুর, জয়পুর এবং বিষ্ণুপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়াও বিষ্ণুপুর-১ এবং ২ পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেওয়া হবে। টিকাকরণের জন্য নির্দিষ্ট মাপকাঠি অনুযায়ী সমীক্ষার মাধ্যমে গোটা স্বাস্থ্য জেলায় প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের সকলকেই টিকা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে।  
দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের বিসিজি টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ছ’টি মাপকাঠি রয়েছে। গত পাঁচ বছরে যক্ষ্মা রোগের কোনও লক্ষণ রয়েছে এমন, ৬০ বছর অথবা তার বেশি বয়সের ব্যক্তি, ধূমপান করেন অথবা আগে করতেন, যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, বা অত্যধিক ওজন কম এমন মানুষদের টিকাকরণ করা হবে।  দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্মের পর শিশু অবস্থায় যে বিসিজি টিকা দেওয়া হয়, তা ১৮ বছর পর্যন্ত কাজ করে। কিন্তু, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদেরই যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাই শিশুদের মতো প্রাপ্ত বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে স্বাস্থ্যদপ্তর বিশেষ চিন্তাভাবনা করেছে। সেক্ষেত্রে ১৯৭০সালে তামিলনাড়ুতে প্রাপ্তবয়স্কদের বিসিজি টিকার সাফল্যকে সামনে রেখে গোটা দেশেই পরীক্ষামূলকভাবে ওই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম ধাপে প্রত্যেক রাজ্যের যক্ষ্মাপ্রবণ নির্দিষ্ট কিছু জেলাকে তার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে এরাজ্যের বিষ্ণুপুর, আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলা রয়েছে। কর্মসূচি সফল হলে আগামী দিনে সব জেলাতেই তা দেওয়া হবে। 
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে যক্ষ্মা নির্মূলিকরণের জন্য গত কয়েক দশক ধরে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার উন্নতি হওয়ায় মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে গিয়েছে। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা সন্তোষজনকভাবে কমেনি।  বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্যজেলায় বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী দুই পুরশহর ছাড়াও বিষ্ণুপুর, সোনামুখী, পাত্রসায়র, ইন্দাস, কোতুলপুর ও জয়পুর ব্লকে প্রতিমাসে গড়ে ১০০জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একইভাবে রাজ্যের বাকি ছ’টি স্বাস্থ্যজেলাতেও যক্ষ্মায় আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। ইতিমধ্যে জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূলীকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে আক্রান্তের বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয়। একই সঙ্গে রোগীদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করে চিকিৎসা চলাকালীন রোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৫০০টাকা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অনেক রোগীর পুষ্টি জোগাতে ‘নিক্ষয় মিত্র’ নামে কিছু সহৃদয় ব্যক্তি অথবা সংস্থা পুষ্টিযুক্ত খাবার দিয়ে থাকে। অর্থাৎ, রোগের প্রতিকারের ক্ষেত্রে নানারকম ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু, আক্রান্তের হার খুব একটা না কমায় তা নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্বেগ বেড়েছে। সেই কারণেই পরীক্ষামূলকভাবে প্রাপ্ত বয়স্কদেরও বিসিজি টিকা দেওয়া হবে। চিহ্নিত ব্যক্তিদের টিকা নেওয়ার জন্য আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানিয়ে আসছেন। সেই মতো তাঁরা নিজ নিজ এলাকার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা নিতে যাচ্ছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ